সৌদিতে পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ: হবিগঞ্জের মিজানুরসহ ২ বাংলাদেশি পুলিশ হেফাজতে

সৌদি আরব পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের তাবুকে পাইপমিস্ত্রির পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে হবিগঞ্জের মিজানুর রহমানসহ (৩৫) দুই বাংলাদেশিকে চার ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় ‘বাঙালি মার্কেট’ এলাকা থেকে অন্য এক বাংলাদেশি স্যানিটারি মিস্ত্রির অভিযোগে তাদের আটক করে শহরের খালেদিয়া থানায় নেওয়া হয়। আটক মিজানুর রহমান হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া গ্রামের রমিজ আলীর ছেলে। অন্যজনের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, স্যানিটারি মিস্ত্রি মেহেদি হাসানের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। মেহেদি হাসানের দাবি, কুমিল্লার হাসান বেগ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি একটি কোম্পানিতে প্লাম্বিংয়ের কাজ পান। শুরুতে তার বেতন ৩ হাজার রিয়াল নির্ধারণ করা হলেও পরে তিনি জানতে পারেন তার প্রকৃত বেতন ৫ হাজার রিয়াল। মাঝখান থেকে হাসান ২ হাজার রিয়াল রেখে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি জানার পর মেহেদি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরাসরি ৫ হাজার রিয়াল বেতন নিতে শুরু করেন।
মেহেদি হাসান আরও উল্লেখ করেন, সরাসরি বেতন নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাসানের এক আত্মীয় মিজানুরকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার রাতে তাকে অনুসরণ করেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করায় তিনি জরুরি নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে ওই দুজনকে আটক করে।
ভুক্তভোগী মেহেদি ও তার সহকর্মীরা ভিডিও কলে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে কাজে যোগ দিলে অনেক সময় বেতনের একটি বড় অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যায়।
আটকের চার ঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় জামিনে মুক্তি পান মিজানুর ও তার সহযোগী। এ ঘটনায় পরবর্তীকালে মামলা হতে পারে বলে মেহেদি হাসান মন্তব্য করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পারিশ্রমিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।



