সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব, অপহৃত একাধিক বনজীবী

সংগৃহীত ছবি
সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে গত দুইদিনে ২০ থেকে ২৫ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করেছে মাছ-কাঁকড়া ধরা ও মধু আহরণের সময় সশস্ত্র বনদস্যুরা। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনজীবীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গহীন সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরে আসা অপহৃতদের সহযোগীরা নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি।
তাদের ভাষ্য, সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দস্যুরা চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাইটভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ি খালে অভিযান চালায়। নিজেদের আলিম ওরফে আলিফ বাহিনী ও ডন বাহিনী পরিচয় দিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে জেলে-মৌয়ালকে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় তারা। শনাক্ত হওয়া অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আল-মামুন (১৬), মনিরুল মোল্লা (২৬), সঞ্জয় মণ্ডল (২৫), হৃদয় মণ্ডল (৪৭), রবিউল ইসলাম বাবু (৩৫), রবিউল ইসলাম (২৪), শুকুর আলী গাজী (৩২), হুমায়ুন (২৭), আব্দুল সালাম (৪৫), আবুল কালাম (৪৭), শাহাজান গাজী (৫০), সিরাজ গাজী (৪০), আবুল বাসার বাবু (৩৭), আল-আমিন (৩৫), ইব্রাহিম গাজী (৫৫) এবং মুরশিদ আলম (৩৫)। নিরাপত্তার কারণে পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি অন্যদের।
অপহরণের পরপরই দস্যুরা কয়েকজন ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ইব্রাহিমের জন্য ৩০ হাজার টাকা, মুরশিদের জন্য ১ লাখ টাকা এবং আব্দুল সালামের জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে কোনো দাবি জানানো হয়নি এখনও। ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানান, একই বাহিনীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপহরণ, মুক্তিপণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। স্থানীয় জেলে ও মৌয়ালরা বলছেন, আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। বনজ সম্পদ লুটপাট ও বন্যপ্রাণী শিকারের মতো অপরাধেও জড়াচ্ছে দস্যুরা।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানিয়েছেন, কয়েকজন বনজীবী অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অপহৃতদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বিস্তারিত তথ্য দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন পরিবার ও সহযোগীরা। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে সমঝোতার চেষ্টা করেন জেলেরা নিজেরাই। তার ভাষ্য, জিম্মিদের নিরাপত্তার কারণে প্রশাসনকে তথ্য দিতে চান না স্বজনরা। গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিষয়টি।



