খালেদার গাড়িতে হামলার আসামি যুবদলের পদে, কমিটি স্থগিত

লোগো
ফেনীতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ার অভিযোগে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতা এনামুল হক সূজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে কেন্দ্রীয় যুবদল এ সিদ্ধান্ত নেয়।
পরে কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক চিঠিতে ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আংশিক কমিটি বাতিল, সূজনকে বহিষ্কার এবং পৌর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় তলব করা হয়। পাশাপাশি পৌর কমিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ফেনী সদরের ফতেহপুর এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের একটি মামলা হয়। পরে গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে শ্রমিক নেতা আবুল কাশেম মিলন আরেকটি মামলা করেন, যেখানে এনামুল হক সূজনকে আসামি করা হয়।
সম্প্রতি ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আট সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন পৌর সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী। ওই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয় সূজনকে।
তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে কমিটির ছয় সদস্য পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারীরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আব্দুল কাদের নয়ন, সহসভাপতি মো. সবুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিল্লাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদ, প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন রুবেল ও দপ্তর সম্পাদক ডালিম মজুমদার। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কর্মীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় জেলা যুবদল সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে নেতারা দাবি করেন, এনামুল হক সূজন মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। এ সময় বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খোন্দকার ও সদস্য সচিব নাইম উল্যাহ চৌধুরী বরাত।
অভিযোগের বিষয়ে এনামুল হক সূজন বলেছেন, শ্রমিক নেতা আবুল কাশেম মিলন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি পরিকল্পিতভাবে তাকে মামলায় আসামি করেছেন। ওই মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তাকে অব্যাহতি দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি কীভাবে দলের পদ পেয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।



