ডিজেল সংকটে ঈশ্বরদীতে হাহাকার, মন্ত্রীকে জানিয়েও মেলেনি প্রতিকার

আগামীর সময় গ্রাফিক্স
আধুনিক কৃষিযন্ত্রের সমাহার থাকলেও জ্বালানি তেলের অভাবে খাঁ খাঁ করছে পাবনার ঈশ্বরদীর ফসলি মাঠ। ডিজেল সংকটে চাষাবাদ ও ফসল কাটা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েকশ’ কৃষক। ড্রাম বা ক্যানে তেল বিক্রিতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে পাম্পগুলো কৃষকদের জ্বালানি দিচ্ছে না। ফলে সেচযন্ত্র থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের কম্বাইন্ড হারভেস্টর— সবই এখন অচল।
খোদ কৃষিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনার দুই দিন পার হলেও স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যার কোনো সমাধান পাননি ভুক্তভোগীরা।
গত রবিবার বিকালে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসে জড়ো হন ৪০ থেকে ৪৫ জন ভুক্তভোগী কৃষক। সেখানে কোনো সুরাহা না পেয়ে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ময়েজ উদ্দিন (কুল ময়েজ) সরাসরি কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফোনে সমস্যার কথা জানান। মন্ত্রী তাৎক্ষণিক কৃষি কর্মকর্তাকে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। এরপর কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পাম্প থেকে তেল পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন।
কৃষক ময়েজ উদ্দিন আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ‘মন্ত্রী সরাসরি কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়ার পরও আমরা পাম্পে গিয়ে তেল পাচ্ছি না। ইউএনও সাহেব বলেছিলেন কৃষি কর্মকর্তা চিঠি দিলে তিনি দেখবেন। এই চিঠি আর নির্দেশের চক্করে আমাদের চাষাবাদ লাটে ওঠার জোগাড়।’
বর্তমানে জমি চাষে পাওয়ার টিলার, সেচের জন্য শ্যালোমেশিন আর ফসল কাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক কম্বাইন হারভেস্টর। এসব যন্ত্রের প্রতিটির জন্যই ডিজেল অপরিহার্য। কিন্তু বিশাল আকৃতির এসব যন্ত্র পাম্পে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হওয়ায় কৃষকরা যুগ যুগ ধরে ক্যানে করে তেল সংগ্রহ করতেন। বর্তমানে সেই পথ বন্ধ থাকায় থমকে গেছে কৃষি উৎপাদন।
পৌর সদরের ইস্তা মহল্লার কৃষক আদম আলীর আটটি কৃষিযন্ত্র চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তিনি দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে জানান, ‘দুই-তিন দিন পরপর মাত্র ৫০-৬০ লিটার তেল দিচ্ছে পাম্প থেকে, যা দিয়ে একদিন চালানোই কঠিন। ফসল ঘরে তোলা নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি।’
অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ কৃষকরা। কৃষক জাহিদুল ইসলাম (গাজর জাহিদ) এ প্রসঙ্গে জানান, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু আমরা আবাদের জন্যই তেল পাচ্ছি না। মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’
ময়েজ উদ্দিনের মতে, কৃষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ডাটাবেস বা ‘কৃষি কার্ড’ না থাকায় এই ভোগান্তি প্রকট হচ্ছে। কার্ড থাকলে পাম্পে কৃষকের পরিচয় নিয়ে কোনো সংশয় থাকত না।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ‘মন্ত্রীর নির্দেশের পর আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, বুধবার থেকে সব কৃষক চাহিদা অনুযায়ী তেল পাবেন।’
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, মূলত ড্রামে তেল নিতে গেলে অন্য গ্রাহকদের সঙ্গে তৈরি হয়। তবে সমস্যা সমাধানে পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। কৃষি বিভাগকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করতে বলা হয়েছে।

