নারায়ণগঞ্জে ১২ ঘণ্টায় ৩ হত্যা, শিশুর গলা কাটা লাশ উদ্ধার

গ্রাফিক্স। আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ফতুল্লা থানার উত্তর নরসিংপুর এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর ৭ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র সৈকতের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে উত্তর নরসিংপুরের বক্তাবলী রোডে হাশেম স্পিনিং মিলের পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে শিশুটির লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দেন।
নিহত সৈকত গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা আঞ্জুর ছেলে এবং স্থানীয় মাহমুদিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মান্নান বলেছেন, ‘গতকাল রবিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ ছিল সৈকত। রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।’
‘সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।’ - যোগ করেন ওসি।
এর আগে সোমবার সকালে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বাজার সংলগ্ন পশ্চিম বেহাকৈর এলাকার একটি দিঘী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে লিটন (২৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত লিটন রংপুর জেলার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং সোনারগাঁ পৌরসভার হামছাদী এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিটন সাইনবোর্ড এলাকায় একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করতেন। তার সঙ্গে স্থানীয় একটি গ্রুপের পূর্ব বিরোধ ছিল। ঘটনার আগের দিন ওই গ্রুপের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। পরদিন রাতে রতনপুর এলাকায় গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিববুল্লাহ বলেছেন, ‘জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।’



