শিবগঞ্জে ১০ দিনে ৬ খুন

প্রতীকী ছবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় গত ১০ দিনের ব্যবধানে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক বিরোধ, বিয়েবহিভর্ভূত সম্পর্কের জের ও সহিংসতাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানিতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১১ মার্চ) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রানীনগর হঠাৎপাড়া গ্রামে। পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী নাসিমা বেগমকে হত্যার পর মরদেহ টয়লেটের ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে স্বামী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এর আগে ৯ মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলার একটি আমবাগান থেকে ট্রাকচালক মাসুদ আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই দিনে কর্ণখালী সেতুর ওপর মাটিভর্তি ট্রাক্টরের চাপায় ইমন আলী নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
গত ৮ মার্চ রাতে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার কোর্টবাজারে ছেলে আওয়ালের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বসা সালিশে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণ হারান তার বাবা আনিসুর রহমান। এ ঘটনায় আহত হন মুনসুর আলী, আসমাউল ও আওয়ালসহ চারজন।
এর আগে ৪ মার্চ মনোহরপুর গ্রামের ফকির নামে এক ব্যক্তি পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে বিষয়টি এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
এ ছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার একটি আমবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিহাব আলী নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার আগে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ার কারণেই এ ধরনের সহিংস ঘটনা বাড়ছে। অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় শিবগঞ্জবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে বলেও জানান তারা।
শিবগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

