আগামীর সময়

‘শনির দশা’ কাটাতে প্রস্তুত সিলেট

‘শনির দশা’ কাটাতে প্রস্তুত সিলেট

সংগৃহীত ছবি

সিলেটের পর্যটন ব্যবসায় সেই করোনাকাল থেকে যেন চলছে শনির দশা। গত কয়েক বছরে মৌসুমেও সুদিন না দেখে এমন বলছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। চব্বিশের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর লুটের মতো ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছিল তাদের হতাশা। আর বেহাল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

এবার ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে সুদিন দেখার প্রত্যাশায় চাঙা হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটক বরণে নিচ্ছেন নানা উদ্যোগ।

সিলেটের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের প্রস্তুতির কথা।

স্থানীয় প্রসাধনী ব্যবসায়ী সোহল আহমদ বেশ উৎফুল্ল। বললেন, ‘আমার দোকানটা একটু ছোটো ছিল। এবার বড় করেছি। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদের জন্য প্রচুর মালামাল কিনেছি। গত দুই বছরের তুলনায় এবার বেশি পর্যটক আসবে। তাই প্রস্তুতিও বেশি নিয়েছি।’

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকার ‘সাদাপাথর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের’ ব্যবস্থাপক জুয়েল মিয়া জানালেন অতিথিবরণের আয়োজন।

‘আমাদের রিসোর্টে ৩০ শতাংশের বেশি বুকিং আগেই হয়ে গেছে। এখনও ঈদের দুই-তিনদিন বাকি। আশা করছি সবগুলো বুকিং হয়ে যাবে।’

‘গেল দেড় বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভালো ব্যবসা হচ্ছে না। নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতা থাকায় এবার ভালো ব্যবসা হবে আশা করছি’- বলছিলেন ভোলাগঞ্জের পর্যটন বাজারের জিরো পয়েন্ট রেস্তোরার মালিক মহিন উল্লাহ।

নগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে অবস্থিত হোটেল গোল্ডেন সিটির মহাব্যবস্থাপক মৃদুল কান্তি দত্ত মিষ্টুও বেশ আশাবাদী।

‘পূর্বের বছরগুলোতে ভালো প্রস্তুতি থাকার পরও কখনও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কখনও বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই ছিল। যদিও বৃষ্টির আভাস আছে, তারপরও এবার আমরা আশাবাদী- এবার শনির দশা কাটবে।’

জাফলং, পান্থুমাই, বিছানাকান্দিসহ জেলার বেশিরভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। সেখানকার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ।

‘আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি আছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ, স্কাউট, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিবারের মতো এবারও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে, যাতে কেউ হারিয়ে গেলে মাইকিং করা যায়। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ফোর্সও বেশি থাকবে।’

গোয়াইনঘাটে পর্যটকদের চাপ জেলার অন্যান্য স্পট থেকে কিছুটা বেশিই থাকে বলে জানালেন ইউএনও। এবার অন্তত চার লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

‘দেশের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত ভালো আছে, ছুটিও বেশি। যে কারণে অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক আগমন হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

    শেয়ার করুন: