রাস্তা খুঁড়ে ঠিকাদার উধাও, ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
হাওরপাড়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক খুঁড়ে রেখে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন ঠিকাদার। এতে বোরোধান কাটা, ঘরে তোলা ও বাজারজাতকরণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাধ্য হয়ে তারা হাওরেই পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। ঘটনা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের তেতুলিয়া ইউনিয়নের ফাগুয়া এলাকার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাগুয়া গ্রামের পূর্বদিক থেকে উকিলবাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি পাকা করার জন্য তিন থেকে চার বছর আগে দেওয়া হয় প্রায় দুই কোটি টাকার টেন্ডার। কাজটি পান মদন উপজেলার ঠিকাদার এম এ ওয়াহেদ। কয়েক মাস আগে তিনি সড়কটি খুঁড়ে কাজ শুরু করলেও পরে তা ফেলে রেখে চলে যান।
নিয়মানুযায়ী সড়ক নির্মাণে প্রথমে খনন করে বালু ভরাট, এরপর সুরকি ও ম্যাকাডোম শেষে পিচ ঢালাই করার কথা। তবে ঠিকাদার স্থানীয় আল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে বালু ভরাটের দায়িত্ব দিয়ে আর তদারকি করেননি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয়রা বাধা দিলে বন্ধ হয়ে যায় কাজ।
এদিকে বর্ষা শুরু হলে খুঁড়ে রাখা সড়কে পানি জমে তা হয়ে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী। এই সড়ক দিয়েই ফাগুয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের হাওর থেকে ধান আনা-নেওয়া করতে হয়। সড়কটির বর্তমান অবস্থার কারণে তারা ধান ঘরে তুলতে বা বাজারে নিতে পারছেন না।
ফাগুয়া গ্রামের কৃষক মিনহাজ মিয়া উল্লেখ করেন, হাওর থেকে ধান আনার এটিই একমাত্র পথ। শ্রমিক সংকটের কারণে এমনিতেই ধান কাটা কঠিন, তার ওপর সড়কের এই অবস্থায় কাটা ধানও আনা যাচ্ছে না বাড়িতে। ফলে কম দামে হাওরেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
আরেক কৃষক রবিউল তালুকদার মন্তব্য করেন, কয়েক মাস ধরে সড়ক খুঁড়ে রেখে খোঁজ নেই ঠিকাদারের। অবৈধভাবে বালু তোলার চেষ্টা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর এগোয়নি কাজ। এতে বর্ষাকালে আরও বেড়েছে দুর্ভোগ।
ইউপি সদস্য সাইকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি খুঁড়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে গর্ত ভরে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ পুরোপুরি। কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে বা বাজারে নিতে পারছেন না।
ঠিকাদার এম এ ওয়াহেদ দাবি করেন, বালুর সংকটের কারণে কাজ এগোয়নি। স্থানীয় একজন বালু দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি সময়মতো। বৃষ্টি কমলে বালু সংগ্রহ করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী ইকরামুল হোসেনের ভাষ্য, তাদের না জানিয়েই ঠিকাদার বর্ষার আগে সড়ক খনন করেন। পরে বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। দ্রুত বালু ভরাট করে নির্মাণ কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারকে।



