রাজশাহী
পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাই

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীর এক সরকারি দপ্তরে দিনের আলোয়, পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সেটা হলো টেন্ডার বাক্স ছিনতাই। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কার্যালয়ে ঘটেছে এ ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী টেন্ডার জমা দিতে এসে হঠাৎই আপত্তি তোলেন। তাদের দাবি, আগে জমা পড়া দরপত্রগুলো বাতিল করতে হবে এবং নতুন করে শুধু তাদের জমা দেওয়া টেন্ডারই গ্রহণ করতে হবে। কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী ২৭ এপ্রিল থেকেই দরপত্র গ্রহণ চলছে বলে জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ধলু পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্সটি তুলে নিয়ে অফিসের করিডরে চলে যান। পরে বাক্স খুলে ভেতরের দরপত্রগুলো বের করে দেখেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পুরো সময়টিতে পুলিশ সদস্যরা কার্যত নির্বিকার দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। পরে অবশ্য টেন্ডার বাক্সটি ফেরত দেওয়া হয় এবং দুপুর আড়াইটার দিকে তা খোলা হয়। তখন চারটি গ্রুপে মোট ৯টি দরপত্র পাওয়া যায়। অথচ মাত্র আড়াই লাখ টাকার পুরনো সামগ্রী বিক্রির এই নিলামে প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল কিনেছিলেন, যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে পুরো প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।
আরডিএ সূত্র জানায়, নিলামে ছিল কিছু পুরনো বিলবোর্ড, পার্কের গাছ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এবং লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন সামগ্রী। এসব বিক্রির জন্যই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেন, পুলিশের সামনেই এমন ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, বাক্সটি অফিসের বাইরের কারও খোলার সুযোগ নেই— তবু কীভাবে দরপত্র বের করা হলো, তা তদন্তসাপেক্ষ।
অন্যদিকে, নগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেনের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন সুরে। তার দাবি, ‘ভুল-বোঝাবুঝির’ কারণেই বাক্সটি নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



