দিনাজপুর
ফুলে ভরপুর লিচু বাগান, ভালো ফলনের আশা

সংগৃহীত ছবি
লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুর জেলা। এখানকার লিচুর চাহিদা দেশ ছাড়িয়ে রয়েছে বিদেশেও। তাই লিচুর মৌসুমে এই অঞ্চলের চাষিরা অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
এখন জেলাজুড়ে হাজার হাজার লিচু গাছ সেজেছে সোনালি ফুলে। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত চাষাবাদের কারণে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
দিনাজপুরে বোম্বাই, বেদানা, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি, মোজাফফরপুরী জাতের লিচু আবাদ হয়। সবার আগে মুকুল আসে মাদ্রাজি ও বেদানা জাতের লিচুগাছে। চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমান আবহাওয়া না বেশি ঠান্ডা, না বেশি গরম। এমন আবহাওয়াই লিচুর জন্য প্রয়োজন।
দিনাজপুরের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লিচুগাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করে সেচ দিচ্ছেন চাষিরা। অনেকে গাছের গোড়াসহ পুরো জমি ভিজিয়ে রেখেছেন। মুকুলে স্প্রে করা হচ্ছে ছত্রাক-নাশক।
লিচুচাষি আক্তার হোসেন বলেন, বাগানে ২০টি বেদানা জাতের লিচুর গাছ আছে। সব কটিতে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতা না থাকা আর রোদের তাপ না থাকায় ভালো হয়েছে। ফলন নির্ভর করছে মুকুল ঝরে পড়ার ওপরে। তবে এখন সেচ আর কীটনাশকের ওপরে আছি। মুকুল ফেটে গুটি বের না হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া এমন থাকলেই হয়।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে ছোটবড় ১০হাজার ৬৬টি বাগান আছে। সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে বোম্বাই লিচু এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে বোম্বাই লিচুর আবাদ রয়েছে। এ ছাড়া ৭০৯হেক্টর জমিতে চায়না-থ্রি , ৩০৮ হেক্টরে বেদানা, ১২৮ হেক্টরে চায়না- টু, ২৪ দশমিক ৫হেক্টরে কাঁঠালি এবং মোজাফফরপুরী জাতের লিচু রয়েছে দশমিক ২৬ হেক্টর জমিতে।
‘দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে’, বলে জানিয়ে কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলছিলেন, বৃষ্টিপাতহীন হালকা ও মাঝারি শীত মুকুল আসার জন্য সহায়ক হয়েছে। তবে এই সময়টাতে গাছের নিবিড় যত্ন দরকার হয়। বিশেষ করে মুকুল আসার পরে সেচটা নিয়মিত দিতে হবে। মুকুল ফোটার পরে তাপমাত্রা অধিক হলে বিকেলের দিকে গাছে ঠান্ডা পানি ছিটাতে হয়।

