যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে বাংলাদেশের নাম অস্বস্তির : বিজিএমইএ সভাপতি

সংগৃহীত ছবি
অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা হচ্ছে কি না- খতিয়ে দেখতে বেশ কয়েকটি বড় বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকার বিষয়টি অস্বস্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করছেন তিনি। এক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করার পর এই পদক্ষেপ নিল দেশটির সরকার। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, সেকশন ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে যে তদন্ত শুরু হয়েছে, তার ভিত্তিতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর এই গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
তদন্তের আওতায় বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে।
এই তদন্তে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার প্রমাণ মিললে সেই দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, ১৬ দেশের কোথাও অন্যায্য চর্চা, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রণোদনা প্রদান এবং মেধাস্বত্বের লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, সেসব খতিয়ে দেখতে তারা শুনানি করবে। এমন অভিযোগের প্রমাণ পেলে হয়তো তারা বাড়তি শুল্ক বসাতে পারে’- বললেন পোশাক মালিকদের সংগঠনের সভাপতি।
‘তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসাটা অস্বস্তির। তবে আমি এতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছি না। তার কারণ বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনে মেধাস্বত্বের চর্চা এখনো সীমিত। মার্কিন ব্র্যান্ডের পণ্যের বাজারও খুবই ছোট। শ্রম অধিকারের ইস্যু ইতোমধ্যে আমরা মীমাংসা করেছি। পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনাও খুবই অল্প। কৃষিতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই কৃষিতে প্রণোদনা দেয়। আর আমাদের সরকার তো শুধু সারে প্রণোদনা দিয়ে থাকে’- যোগ করেন মাহমুদ খান।
তার মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিজেদের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় থেকে এমন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড়। তবে তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাটা যৌক্তিক নয়। তার কারণ দেশটিতে আমাদের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। আর আমরা যেসব তৈরি পোশাক উৎপাদন করি, সেগুলো মার্কিন ব্যবসায়ীরা কখনোই করবেন না।’
তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসায় বিষয়টি মোকাবিলায় সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অগ্রিম যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে বলে মনে করছেন বিজিএমইএর সভাপতি।

