চিনি-পেঁয়াজ ও ডিমের দামে উর্ধ্বগতি

নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের আয়ের ওপর
বাজারে গিয়ে স্বস্তিতে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা। চাল, ডাল, তেল কিংবা সবজি সবকিছুর দামই যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে চিনি, পেঁয়াজ ও ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের আয়ের ওপর।
গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতের বাজার চিত্র বলছে, সরবরাহ ঠিক থাকলেও খুচরা পর্যায়ে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দামই এখন বেশ চড়া।
বাজারে খোলা চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল রাতে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। অন্যদিকে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১১০ টাকায়। পেঁয়াজের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় উঠেছে।
ফার্মের মুরগির ডিমের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে চড়া। আগে প্রতি ডজন ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে। অনেক খুচরা দোকানে প্রতি হালি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ ডজনপ্রতি দাম পড়ছে প্রায় ১৫০ টাকা।
তবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেও সোনালি মুরগির দাম ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা ছিল, যা এর আগে সর্বোচ্চ ৪৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
দাম বাড়ে, আয় বাড়ে না
২৫ এপ্রিল ২০২৬
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি মানের চালের (পাইজাম/আটাশ) দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটার দাম কেজিতে ২ টাকা এবং প্যাকেট আটা ও খোলা ময়দার দাম ৫ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৩ টাকা, মানভেদে ছোলার দাম ৫ থেকে ১০ টাকা এবং ছোট এলাচের দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মশলার মধ্যে ধনে ও তেজপাতার দাম কেজিতে ২০ টাকা এবং শসার দাম ১০ টাকা বেড়েছে।
বাজারে সবজির দাম ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে। বিশেষ করে বেগুন, পটল, কাঁকরোল, ধুন্দল ও করলার দাম অনেক বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁকরোল; প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। বেগুনের দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং শসা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া করলা ১১০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৯০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। টমেটো ও লাউয়ের দামও ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।
মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি। আকারভেদে রুই মাছের কেজি ৩২০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। তেলাপিয়া ও পাঙাশ ২২০ টাকা, চাষের টেংরা ৪০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় মাছের মধ্যে চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় ঠেকেছে।




