যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ‘অসম ও অনৈতিক’: বিকেএমইএ সভাপতির ক্ষোভ
- বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি বাধ্যতামূলক শর্ত
- যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শর্ত মাত্র ৫ থেকে ৬টি
- পুনর্বিবেচনার দাবি

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য ও সহযোগিতা চুক্তিকে দেশের স্বার্থবিরোধী এবং একতরফা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। চুক্তির কাঠামোয় বাংলাদেশের ওপর বিশাল শর্তের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলেও বিপরীতে সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত নগণ্য বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার আগামী সময়ের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এই চুক্তির অসম সমীকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এটি পুনর্বিবেচনার জোরালো তাগিদ দেন।
বিকেএমইএ সভাপতি জানান, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি বাধ্যতামূলক শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শর্ত রয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৬টি। মোহাম্মদ হাতেম চুক্তিটিকে ‘একতরফা চাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই সমতাভিত্তিক বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে না। যেখানে শর্তের ভার একপক্ষের ওপর এত বেশি, সেখানে তা কার্যত আমাদের শিল্পের ওপর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেবে।’
চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হলো রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাধ্যবাধকতা। চুক্তির একটি ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি অন্য কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে, তবে বাংলাদেশকে তা সমর্থন করতে হবে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এটি শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়, বরং সরাসরি আমাদের সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির ওপর আঘাত। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা বা এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক ও বাণিজ্যিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।’
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা কাঁচামাল ব্যবহার করলে শুল্কমুক্ত সুবিধার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাকে ‘মরীচিকা’ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বর্তমানে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে উচ্চমানের তুলা সংগ্রহ করে। চুক্তির শর্ত মেনে নির্দিষ্ট দেশ থেকে কাঁচামাল আনতে হলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ হাতেম মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পোশাক খাতে জিএসপি সুবিধা ছাড়াই শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করে আসছে। ফলে অতিরিক্ত শর্ত মেনে নামমাত্র সুবিধার পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে বিকল্প বাজার ও কৌশল তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তিটি জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডার বা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা এবং জনসমক্ষে স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত ছিল, যা এখানে করা হয়নি।’
বিকেএমইএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চুক্তির ‘অসম ও অনৈতিক’ দিকগুলো অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন করে দরকষাকষির মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। দেশের রপ্তানি খাত এবং জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এমন কোনো চুক্তিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা।



