ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং বদলে দিয়েছে গ্রামবাংলার রেমিট্যান্সের চিত্র

ব্র্যাক ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে চলছে ব্যাংকিং সেবা
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের ঘামঝরা এই অর্থ শুধু পরিবারের মুখে হাসিই ফোটায় না, সমৃদ্ধ করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারও। তবে দীর্ঘদিন ধরেই রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাহিত হওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি পাচ্ছিল না তার পুরো সুফল। এই প্রেক্ষাপটে এজেন্ট ব্যাংকিং এখন হয়ে উঠেছে এক নতুন সম্ভাবনার নাম। এই সম্ভাবনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং।
দেশব্যাপী ব্র্যাক ব্যাংকের ১,১২০টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের বিস্তৃত এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের কল্যাণে সহজ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবায় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে ফিরছে প্রবাসী আয়, যা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে, বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলে অবৈধ চ্যানেলের দৌরাত্ম্য ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের একটি বড় অংশই যেত আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে থেকে। গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের ফলে এখন ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে মানুষের দোরগোড়ায়।
এই চ্যানেলের মাধ্যমে ২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ৭২০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স বিতরণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। তবে শুধু প্রবৃদ্ধির অঙ্ক নয়, পরিবর্তনের মূল গল্প লুকিয়ে আছে ব্যাংকটির সেবার ধরনে। মোট অর্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই সরাসরি জমা হয়েছে গ্রাহকের হিসাবে। ফলে নগদ নির্ভরতা কমেছে, বেড়েছে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা। এই পরিবর্তন গ্রামীণ জীবনে তৈরি করছে নতুন বাস্তবতা। আগে যেখানে প্রবাসী আয়ের টাকা তুলতে শহরে যেতে হত, এখন সেই অর্থ পাওয়া যাচ্ছে হাতের কাছেই। এতে যেমন সময় ও খরচ বাঁচছে, তেমনি আর্থিক সেবার প্রতি বাড়ছে মানুষের আস্থা।
রেমিট্যান্স গ্রাহকরা ব্যাংকটির ‘প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট’ সেবার মাধ্যমে সঞ্চয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যেখানে সুবিধাভোগীদের জন্য থাকছে বাড়তি অনেক সুযোগ-সুবিধা। শুধু অর্থ পৌঁছে দেওয়াই নয়, সেই অর্থকে কাজে লাগানোর সুযোগও তৈরি করছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির ‘স্বাবলম্বী’ ঋণসেবার মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হচ্ছে রেমিট্যান্স গ্রাহকদের। ২০২৫ সালে ৪ হাজার ৫০৬ জন গ্রাহক এই সুবিধা নিয়েছেন। যার মোট পরিমাণ ৪৯০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ব্যাংকের মোট ‘স্বাবলম্বী’ ঋণের ৬১ শতাংশের বেশিই এসেছে এই চ্যানেল থেকে, যা এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।
ব্যাংকটির নানান গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগের ফলে প্রবাসী আয়ের ব্যবহারেও এসেছে পরিবর্তন। শুধু ভোগব্যয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীরা এই অর্থ এখন বিনিয়োগ করছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি বা অন্যান্য আয়ে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে স্বনির্ভরতার নতুন পথ। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। দেশব্যাপী ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা নিয়ে ব্যাংকটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব অল্টারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলস নাজমুর রহিম জানান, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহকে সহজতর করতে আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, উদ্ভাবনী ও সুবিধাজনক ব্যাংকিং সেবা শুধু আর্থিক অন্তর্ভুক্তিরই প্রসার ঘটায় না, বরং ব্যাংকিং চ্যানেলে বাড়ায় মানুষের আগ্রহও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স সেবা সহজলভ্য হওয়ায় এখন অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চ্যানেল থেকে সরে এসে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করতে আগ্রহী হচ্ছেন মানুষ। এতে করে শুধু ব্যক্তি নয়, সামগ্রিকভাবে লাভবান হচ্ছে দেশের অর্থনীতিও। বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রায় এজেন্ট ব্যাংকিং এখন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর ব্র্যাক ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব দেশের প্রতিটি প্রান্তে। রেমিট্যান্সের এই নতুন যাত্রায়, গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই বদলে যাচ্ছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গল্প। ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হাত ধরে সেই গল্প এখন আরও গতিশীল, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক।



