অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা
সংকট মোকাবিলায় তেলসহ কৌশলগত পণ্যের মজুদ গড়ে তোলা হবে

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বুধবার কৌশল তৈরি সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সভা
সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলসহ কৌশলগত পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমদানি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কৌশলপত্র।
আজ বুধবার কৌশল তৈরিসংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির প্রথম সভা শেষে এসব কথা জানান তিনি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেছেন, এই কৌশলপত্র বিদ্যমান সংকটকে রূপান্তর করবে সম্ভাবনায়। এতে অর্থনীতি হবে আরও গণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, মধ্যমেয়াদে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে জোর দিচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, সয়াবিন তেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে মজুদ বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের।
তারা শুধু কাগুজে বা তাত্ত্বিক পরিকল্পনা করতে চান না বলে উল্লেখ করেছেন উপদেষ্টা তিতুমীর।
তিনি বলেছেন, বাস্তবভিত্তিক, কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেছেন, বিদ্যমান কর্মসূচিগুলো ঢেলে সাজানো হবে নতুনভাবে। কারণ অতীতে এগুলোর কিছু অংশ রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহৃত হয়েছে। ইউরোপীয় মডেলের মতো একটি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর দিকেও কাজ করছে সরকার।
অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন ও কমিটির সদস্যসচিব সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেনসহ অন্য সদস্যরা।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে কৌশলপত্র তৈরির কাজ শেষ করবে ৩৩ সদস্যের এ কমিটি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা।
তিনি জানান, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে—চার, আট ও দশ বছরমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা।



