বিমা খাতে মুনাফায় বড়রা এগিয়ে, ছোটরা চাপে

প্রতীকী ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর আয়ে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধি এবং দাবি পরিশোধের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ বিমার বড় কোম্পানিগুলো রেকর্ড মুনাফা করলেও ছোট কোম্পানিগুলোর আয় তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছে।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য ও আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমা খাতের রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স শেয়ার প্রতি সর্বোচ্চ আয় বজায় রেখেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৪২ পয়সা। শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ট ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি ।
পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস ৪ টাকা ৫৭ পয়সা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ ক্যাশ এবং ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ট ঘোষণা করেছে। আলোচ্য অর্থবছরের জন্য কোম্পানি শেয়ারপ্রতি আয় ৪ টাকা ৫৭ পয়সা, শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদ মূল্য ৪৬ টাকা ৯৭ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ৩ টাকা ৯ পয়সা হয়েছে। যেখানে এর আগের বছরে ছিল যথাক্রমে ৪ টাকা ৭৯ পয়সা, ৪৪ টাকা ৬৫ পয়সা এবং ৯১ পয়সা।
গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫ টাকা ৪৪ পয়সা, শেয়ারপ্রতি নেট সম্পদ মূল্য হয়েছে ৭০ টাকা ৫৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৮ টাকা ৯১ পয়সা। যেখানে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরে ছিল যথাক্রমে ২ টাকা ২৩ পয়সা, ২৭ টাকা ২৬ পয়সা এবং ২ টাকা ৯১ পয়সা। কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ২৭ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ট ঘোষণা করেছে। আগের বছর ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ২৫ শতাংশ।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর আয়ের এই পার্থক্যের পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। যেসব কোম্পানি সরকারি ট্রেজারি বন্ড এবং ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রেখেছে, বর্তমান উচ্চ সুদহারের বাজারে তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিলায়েন্স, পাইওনিয়ার ও গ্রিন ডেল্টার মতো কোম্পানিগুলো এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।
দক্ষ বিমা কোম্পানিগুলো তাদের আয়ের একটি বড় অংশ ধরে রাখতে পারে যদি তারা ঝুঁকির সঠিক মূল্যায়ন করে দাবি পরিশোধের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বড় কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী রি-ইন্স্যুরেন্স সুবিধা তাদের নিট মুনাফা সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করছে।
তবে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো তুলনামূলক স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর আয়ে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ফারইস্ট লাইফের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো লোকসান ও আস্থার সংকটে ভুগছে।
খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমা খাতের গড় পি/ই রেশিও বর্তমানে ১২ থেকে ১৮-এর মধ্যে ওঠা-নামা করছে। গ্রিন ডেল্টা ও রিলায়েন্সের মতো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর পি/ই রেশিও বিনিয়োগের জন্য বেশ যৌক্তিক পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। অনেক সময় বাজারে মূলধনী মুনাফার আশায় বিনিয়োগকারীরা এ খাতের শেয়ারে সক্রিয় থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমা খাতের প্রবৃদ্ধি মূলত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পায়নের ওপর নির্ভরশীল। আমদানি-রপ্তানি বাড়লে মেরিন ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সুযোগ থাকে। তবে কমিশন নিয়ন্ত্রণ এবং দাবি পরিশোধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

