লেনদেন ও রিটার্নে ভিন্ন চিত্র শেয়ারবাজারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সপ্তাহ জুড়ে শেয়ারবাজারে খাতভিত্তিক লেনদেন ও দর পরিবর্তনে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ প্রধানত কিছু নির্দিষ্ট খাতে কেন্দ্রীভূত থাকলেও, ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে রিটার্নের দিক থেকে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচিত সপ্তাহে লেনদেনে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং খাত, যা মোট লেনদেনের প্রায় ১৬.৯ শতাংশ দখল করে। এর পরেই ছিল টেক্সটাইল খাত, যার দখলে ছিল ১৩.৪ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাতের দখলে ১২.২ শতাংশ। বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতার কারণে এসব খাতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি বেশি ছিল বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, রিটার্নের দিক থেকে এগিয়ে ছিল ভিন্ন কিছু খাত। সাধারণ বীমা খাত সর্বোচ্চ ৫.৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করে। এ ছাড়া পাট খাত ৫.১ শতাংশ এবং ট্যানারি খাত ৩.৭ শতাংশ বেড়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলকভাবে কম মূল্যায়িত শেয়ার এবং স্বল্প ফ্লোটের কারণে দ্রুত দর বৃদ্ধি হয়েছে এসব খাতে।
বিপরীতে, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কমতির কারণে কিছু খাতে দরপতন দেখা গেছে। এর মধ্যে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত ২.২ শতাংশ কমে সবচেয়ে বেশি পতনের তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাত ১.৯ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাত ১.২ শতাংশ কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই খাতগুলোতে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ কম এবং কিছু ক্ষেত্রে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দরপতনের কারণ।
বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে খাতভিত্তিক রোটেশন স্পষ্ট হচ্ছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ এক খাত থেকে অন্য খাতে দ্রুত স্থানান্তর করছেন, যা স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি দামের প্রভাব এখনো বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যা খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে বৈচিত্র্য আনছে। এর আগে একই ধরনের পরিস্থিতিতে বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা গিয়েছিল।
সব মিলিয়ে, বাজারে লেনদেন সক্রিয় থাকলেও খাতভেদে পারফরম্যান্সে বড় ধরনের পার্থক্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানেরই প্রতিফলন।
‘সামনের দিনগুলোতে খাতভিত্তিক নির্বাচনই বিনিয়োগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’- মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





