লেনদেন কমে বাজারে স্থবিরতা, সূচকও নিম্নমুখী

ছবি: আগামীর সময়
দেশের শেয়ারবাজারে আবারও লেনদেনে খরা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েক দিন ধরেই লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমছিল। তবে আজ বুধবার তা আরও নিচে নেমে স্পষ্ট করেছে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার চিত্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশ কিছু কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা সামনে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বাজারে লেনদেনের গতি কমেছে এবং তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘ধীরে চলা’ প্রবণতা।
গত এক মাসের প্রবণতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, যেখানে আগে দৈনিক লেনদেন ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা ৮০০ কোটির নিচে নেমে এসেছে। আজকের লেনদেন আরও কমে দাঁড়িয়েছে মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে প্রায় ৮৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল। এর আগের কার্যদিবসে প্রায় ৮৭৬ কোটি টাকার মতো লেনদেন ছিল। তবে ধারাবাহিক পতনের ধারায় আজ লেনদেন নেমে এসেছে ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৬৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা কম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেন কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বড় বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। তারল্য সংকটের কারণে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। এ ছাড়া দ্রুত লাভের সুযোগ কম থাকায় কমেছে ডে-ট্রেডারদের অংশগ্রহণও।
বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ অবস্থায় রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক থাকায় বাজারে গতি কমেছে। অন্যদিকে, ধারাবাহিক লোকসানের কারণে নতুন করে বাজারে প্রবেশে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও দেখাচ্ছেন অনীহা।
দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে ৫০,২৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১,০৫৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২,০০৯ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৮টির দর বেড়েছে, ২১৬টির দর কমেছে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসইতে ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকার।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪ পয়েন্ট কমে ১৪,৮০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে ২০০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৯টির দর বেড়েছে, ১০৪টির দর কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকার।
ডিএসইতে শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড উঠে এসেছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানিটির ৬ হাজার ৭২৯ বারে ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ১২২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং এর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোজাফ্ফর হোসেনের শেয়ারদর ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানিটির ১ হাজার ৭২৭ বারে ৫২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৭টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং এর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ টাকায়। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা সিলকো ফার্মার শেয়ারদর ৮ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানিটির ১ হাজার ৭৭৬ বারে ৪১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং এর বাজারমূল্য ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের
৭.৪৬ শতাংশ, অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের ৭.২৯ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইলের ৬.৪৫ শতাংশ, টেকনো ড্রাগসের ৫.৭৯ শতাংশ, মালেক স্পিনিংয়ের ৫.৭২ শতাংশ, অ্যাপেক্স ট্যানারির ৪.৭২ শতাংশ ও জেএমআই হসপিটালের ৪.৩০ শতাংশ।
এদিকে, শেয়ারদর পতনের শীর্ষে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড উঠে এসেছে। কোম্পানির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা প্রিমিয়ার লিজিংয়ের শেয়ারদরও আগের দিনের চেয়ে কমেছে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ।
তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের ৭.৪২ শতাংশ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সের ৬.৫২ শতাংশ, হাক্কানি পাল্পের ৫.৯৭ শতাংশ, প্রাইম ফাইন্যান্সের ৫.৫৬ শতাংশ, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ৪.৭৯ শতাংশ, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ৪.৫৬ শতাংশ এবং খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের ৪.৪০ শতাংশ।



