বেক্সিমকো জিরো-কুপন বন্ডের অর্থ পরিশোধে অনাপত্তি সংগ্রহের সময় বাড়ল

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেডের বেক্সিমকো ফার্স্ট আনসিকিউরড জিরো-কুপন বন্ডের বকেয়া টাকা পরিশোধের সময়সীমা আরও ৩০ কার্যদিবস বৃদ্ধি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বন্ডটির সংশোধিত পরিশোধ পরিকল্পনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) সংগ্রহের লক্ষ্যে এই সময় বাড়িয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
জানা গেছে, বেক্সিমকো জিরো-কুপন বন্ডের টাকা পরিশোধের সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক বিনিয়োগকারী এখনো তাদের পাওনা বুঝে পাননি। বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য একটি সংশোধিত পরিশোধ পরিকল্পনা (রিভাইজড রিডেম্পশন প্ল্যান) তৈরি করা হয়েছে। এই সংশোধিত পরিকল্পনার বিষয়ে বন্ডহোল্ডাররা বা বিনিয়োগকারীরা রাজি আছেন কি না, তা জানার জন্য তাদের অনাপত্তি সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
বন্ডটির ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এই অনাপত্তি সংগ্রহের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন জানিয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় সম্মতি আদায়ের লক্ষ্যে সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৩০ কার্যদিবস বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। মূলত পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে বন্ডহোল্ডারদের মতামত ও আনুষ্ঠানিক সম্মতি নেওয়ার জন্য পূর্বনির্ধারিত সময় যথেষ্ট না হওয়ায় দেওয়া হয়েছে এই অতিরিক্ত সময়।
বেক্সিমকো জিরো-কুপন বন্ডের টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই সংকট কাটাতে কোম্পানিটি একটি নতুন বা সংশোধিত পরিশোধ পরিকল্পনা জমা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে বন্ডহোল্ডারদের বড় অংশের অনাপত্তি প্রয়োজন। ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এখন বর্ধিত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই অনাপত্তি সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করবে।
বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ডহোল্ডারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি সংগ্রহ সম্পন্ন করতে হবে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি আরও পোক্ত হলো। ফলে বেক্সিমকো এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমঝোতার একটি বড় সুযোগ তৈরি হলো। জিরো-কুপন বন্ডের পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। বেক্সিমকোর এই বন্ডটি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ কাজ করছিল। তড়িঘড়ি না করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের মতামত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় পাওনা আদায়ের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



