ব্যাংক খাতে ইতিবাচক মুনাফা
আকর্ষণীয় লভ্যাংশের প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের

আগামীর সময় গ্রাফিক্স
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) মুনাফায়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সক্ষম হয়েছে তাদের ইপিএস (শেয়ার প্রতি আয়) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে। বিনিয়োগকারীদের মাঝেও ফিরতে শুরু করেছে আস্থা। তাদের প্রত্যাশা, ব্যাংক খাত থেকে ভালো ডিভিডেন্ট আসবে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায় আলোচ্য সময়ে ব্যাংক খাতের তালিকাভুক্ত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্র্যাক ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৬ দশমিক ৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৩৭ পয়সা। ইপিএস বৃদ্ধির হার ৩৯ শতাংশ।
সিটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৬০ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৯ মাসে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ পয়সা। যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে আয় ছিল ২.৯৬ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৬৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ৯০ পয়সা। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ৮ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৯ মাসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ দশমিক ৬৫ পয়সা। যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে আয় ছিল ২.৪৫ পয়সা।
ইপিএস বাড়ার তালিকায় রয়েছে পূবালী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক। এদিকে ব্র্যাক বা সিটি ব্যাংক যখন রেকর্ড মুনাফা করছে, তখন মুনাফায় পতন দেখা গেছে ঢাকা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের ৯ মাসের ইপিএস ১.৬৬ টাকা থেকে কমে ০.৬২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বড় ধরনের লোকসানের মুখে রয়েছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। এছাড়া শেয়ারপ্রতি লোকসানে রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ সাতটি ব্যাংক।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নেতিবচাক প্রভাব ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যে। যার প্রভাব পড়ে ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানেও। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে বাড়তে থাকে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার আয়ে।
ব্যাংক সূত্র থেকে জানা যায়, স্মার্ট রেট ও পরবর্তীতে বাজারভিত্তিক সুদহারের কারণে ঋণের সুদ থেকে আয় হয়েছে বড় অঙ্কের। সরকারি সিকিউরিটিজ ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকগুলো পেয়েছে উচ্চ মুনাফা। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে বজায় ছিল আয়ের ধারাবাহিকতা। তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের অনেক শেয়ারের পিই রেশিও বর্তমানে অবস্থান করছে ৫ থেকে ৭-এর মধ্যে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো প্রতি ১ টাকা আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের মাত্র ৫ থেকে ৭ টাকা গুনতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত অবমূল্যায়িত।
তবে মুনাফা আকাশচুম্বী হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে খেলাপিঋণ ও সুশাসন নিয়ে শঙ্কা থাকায় এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না শেয়ারদরে। সম্প্রতি লেনদেন ও শেয়ারের দাম বৃদ্ধির শীর্ষে দেখা যাচ্ছে ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে। যার মানে এ খাতের প্রতি আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে বিনিয়োগকারীদের।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৫ সালের এই ৯ মাসের শক্তিশালী ইপিএস ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বছর শেষে এ ব্যাংকগুলো আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু ইপিএস না দেখে ব্যাংকের এনপিএল বা খেলাপিঋণের হার যাচাই করাও জরুরি।



