ঝুঁকিতে বিডি অটোকার্সের বিনিয়োগকারীরা

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ অটোকার্স লিমিটেডের শেয়ারদর সম্প্রতি অস্বাভাবিকভাবে লাফিয়ে বাড়ছে। অথচ কোম্পানির আর্থিক ভিত ও লভ্যাংশের ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায় চরম দুর্বলতা। আয়ের ধারাবাহিক পতন ও ডিভিডেন্ড কমার মধ্যেই শেয়ারদরের এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও গত এক মাসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশের বেশি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দর ছিল ১৩৬ টাকা। ৩০ মার্চ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৬ টাকায়।
শেয়ারদরের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছে ডিএসই। উত্তরে কোম্পানিটি জানিয়েছে তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) নাই। পিএসআই ছাড়াই এই ধরনের উল্লম্ফন বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম চাহিদা বা স্পেকুলেটিভ ট্রেডিংয়ের ইঙ্গিত দেয় বলে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোম্পানিটির আর্থিক সূচক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবসার পরিধি ও মুনাফা— উভয়ই অত্যন্ত সীমিত। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ পয়সা। অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫): ইপিএস দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ পয়সা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড একটি বড় পাওনা হলেও বিডি অটোকার্সের ক্ষেত্রে চিত্রটি নেতিবাচক। ২০২১ ও ২০২২ সালে ৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ট দিলেও ২০২৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ শতাংশে। বর্তমান বাজারমূল্যে এই শেয়ারের ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড মাত্র ০.১ শতাংশ। অর্থাৎ আয় ও ডিভিডেন্ট— কোনো দিক থেকেই এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভজনক অবস্থানে নেই।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিডি অটোকার্সের বর্তমান দরবৃদ্ধি ও মৌলিক অবস্থার মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। রাজস্ব ও মুনাফা অত্যন্ত নগণ্য। মৌলিক তথ্যের চেয়ে গুজব বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর চাহিদাই এই দরবৃদ্ধির মূল কারণ হতে পারে।
যদিও বিডি অটোকার্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই, তবুও শেয়ারটির অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ফাঁদ হতে পারে। আয়ের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত দরবৃদ্ধির এই বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

