বড় লোকসানে সিঙ্গার বাংলাদেশ: আর্থিক সূচকে বড় অবনতি

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের বড় ধরনের অবনতি ও আর্থিক সক্ষমতায় তীব্র টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে। বছর ব্যবধানে কোম্পানির লোকসান যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে নগদ প্রবাহ ও নিট সম্পদমূল্য।
কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫.৬০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৫০ টাকা। নগদ প্রবাহে টান পড়েছে। গত বছর একই সময়ে নগদ টাকার প্রবাহ ছিল ৪.৭৯ টাকা। কিন্ত চলতি প্রান্তিকে হয়েছে ঋণাত্মক ২১.৪২ টাকা। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য গত বছর ছিল ২১.৩১ টাকা। কিন্তু চলতি প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ঋণাত্মক ৩.৯১ টাকা।
কোম্পানির টার্নওভার (বিক্রয়লব্ধ আয়) ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এর পেছনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভোক্তা ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদা ব্যাপক কমেছে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন এবং দীর্ঘ ঈদ ছুটির প্রভাবও বিক্রয় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উৎপাদন ও পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বাজারে ক্রেতাদের তীব্র মূল্য সংবেদনশীলতার কারণে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সেই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। এতে অপারেটিং মুনাফা ৮.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নিট ফাইন্যান্স খরচ বেড়েছে ৪১.৪ শতাংশ। বিশেষ করে, ব্যবসার প্রসারে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদ ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ইউরোর বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে আন্তঃকোম্পানি ঋণে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত লোকসানও আর্থিক অবস্থাকে চাপে ফেলেছে।
বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় ইনভেন্টরি বা মজুত পণ্যের পরিমাণ ২৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ক্রেডিট সুবিধা এবং ধীরগতির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ফলে ট্রেড রিসিভেবল (বকেয়া পাওনা) ৩৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নগদ প্রবাহের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এনওসিএফপিএস ঋণাত্মক হওয়ার বিষয়ে সিঙ্গার বাংলাদেশ জানিয়েছে, মূলত হায়ার পারচেজ স্কিম (কিস্তিতে পণ্য ক্রয়) এবং ডিলারদের দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি ক্রেডিট সুবিধার কারণেই এ সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) থেকে তাদের এই ক্যাশ ফ্লো পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে।
সামগ্রিকভাবে, বাজারের দুর্বল চাহিদা, উচ্চ পরিচালনা ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা সিঙ্গারের বর্তমান আর্থিক অবস্থাকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রার বিনিময় হারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে কোম্পানিটির জন্য স্বল্পমেয়াদে ঘুরে দাঁড়ানো বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানির পরবর্তী প্রান্তিকগুলোর ব্যবসায়িক কৌশল এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



