এনএলআই সিকিউরিটিজকে খুলনায় ডিজিটাল বুথ স্থাপনের অনুমোদন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে খুলনায় একটি ডিজিটাল বুথ স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পুঁজিবাজারের লেনদেন বাড়ানো ও বিনিয়োগকারীদের সহজে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ডিজিটাল বুথ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ বুথ থেকে খুলনার ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজার সম্পর্কে সহজে সকল তথ্য এবং সরাসরি শেয়ার লেনদেন করার সুযোগ পাবেন। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ ডিজিটাল বুথ অনুমোদন দেওয়া হলো।
সম্প্রতি বিএসইসি থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল বুথ অনুমোদনের বিষয়টি এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও অবহিত করা হয়েছে।
এনএলআই সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুলনায় ডিজিটাল বুথ চালু করা জন্য ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল বুথ পরিচালনার জন্যও কর্মী নিয়োগ দেওয়ার কাজ চলছে। বিএসইসির অনুমোদনের পরবর্তী ডিএসইর সম্মতি পেলেই ডিজিটাল বুথের কার্যক্রম শুরু হবে। সাধারণত ডিএসইর সম্মতি পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। বুথ অনুমোদন দেওয়ার সময় কমিয়ে আনলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বাড়তি খরচ কম লাগতো।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের গত ১ মার্চ ডিএসইর পাঠানো চিঠির আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে কমিশন খুলনায় এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের একটি ডিজিটাল বুথ স্থাপনের অনুমোদন দেয়।
অনুমোদন অনুযায়ী, নতুন ডিজিটাল বুথটি খুলনার এনএলআই টাওয়ার-৩, ৯৭৭ আপার যশোর রোডে স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা সহজে শেয়ার লেনদেনসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএসইসিরে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল বুথ স্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কমিশনের বিদ্যমান নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিএসইসির জারি করা নির্দেশনা এবং এর সংশোধনীসমূহ মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০সহ সংশ্লিষ্ট সকল সিকিউরিটিজ আইন মেনে চলতে হবে।
এ বিষয়ে ডিএসই এবং এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন। নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করে ডিজিটাল বুথ পরিচালনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজধানীর বাইরে পুঁজিবাজারের কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোতে ডিজিটাল বুথ বাড়লে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। এর ফলে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহেদ ইমরান আগামীর সময়কে বলেন, ‘আমার ডিজিটাল বুথ স্থাপনের জন্য বিএসইসির অনুমোদন পেয়েছি। এখন ডিএসইর সম্মতি পেলে ডিজিটাল বুথ চালু করতে পারব। এর জন্য দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। আমরা ইতোমধ্যে অফিস সেটাআপ করে ফেলেছি। লোকবল নিয়োগ চলমান রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত ডিজিটাল বুথ খোলার নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মতিক্রমে যেকোনো স্টক ব্রোকার ডিজিটাল বুথের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করতে পারবে। সিটি করপোরেশনের মধ্যে, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়াও দেশের বাইরেও ডিজিটাল বুথ স্থাপন করা যাবে। ওই বুথ স্টক ব্রোকারের প্রধান অফিস দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কোনো ধরনের তৃতীয়পক্ষ দ্ধারা পরিচালনা করা যাবে না।
ডিজিটাল বুথ পরিচালনার জন্য স্টক ব্রোকারের প্রয়োজনীয় কাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সক্ষমতা ও জনবল থাকতে হবে। দেশের ভেতরে প্রতিটি বুথ খোলার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে ১ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। দেশের বাহিরে খুলতে দিতে ১০ লাখ টাকা। বুথ চালু করতে চাওয়া ব্রোকার হাউজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট থাকতে হবে। এ ছাড়া, প্রতিটি বুথে কাস্টমার সার্ভিসের জন্য একটি ফোন নম্বর, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক সুবিধা, কমপক্ষে একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি, ভার্চুয়াল ট্রেডিং মনিটর বা ডিসপ্লে টিকার ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর বুথের সামনে সাইনবোর্ড থাকবে, যেখানে স্টক ব্রোকারের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, লোকাল এড্রেসের বিস্তারিত তথ্য, যোগাযোগ নাম্বার ও মেইল এড্রেস থাকবে।
বিদেশে বুথ খোলার সেক্ষেত্রে ব্রোকারকে নন-জুডিশিয়াল ৩০০ টাকার স্টাম্পে অমীমাংসিত দাবি, বৈধ দাবি বা অপরিশোধিত দাবির ক্ষেত্রে তারা এককভাবে দায়বদ্ধ থাকবে বলে লিখিত দিতে হবে। ব্রোকার হাউসের পর্ষদ মনোনীত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা যেকোনো শীর্ষ কর্মকর্তা বা পরিচালকের স্বাক্ষর সেই স্ট্যাম্পে থাকতে হবে।



