মূলধন শক্তিশালীকরণ
হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ছাড়বে ব্যাংক এশিয়া

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহে এবার ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন সাসটেইনেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই খাতে অর্থায়নের লক্ষ্যেই এই বন্ড আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
বুধবার (৬ মে) অনুষ্ঠিত ব্যাংক এশিয়ার পরিচালনা পর্ষদের ৫৮৪তম সভায় হাজার কোটি টাকার গ্রিন সাসটেইনেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
ব্যাংক এশিয়া জানিয়েছে, প্রস্তাবিত গ্রিন সাসটেইনেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডটির আকার হবে ১ হাজার কোটি টাকা। এটি হবে নন-কনভার্টিবল, আনসিকিউরড, সম্পূর্ণ রিডিমেবল এবং কুপনভিত্তিক ফ্লোটিং রেটের বন্ড। বন্ডটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ বছর। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এটি ইস্যু করা হবে।
ব্যাংকটি আরো জানিয়েছে, বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ মূলত ব্যাংকের টিয়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নেও এ অর্থ ব্যয় করা হবে। বিশেষ করে বাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে নিয়ন্ত্রক মূলধনের সক্ষমতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহে বন্ডের দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে সবুজ অর্থায়ন বা গ্রিন ফাইন্যান্সিং এখন বৈশ্বিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ব্যাংক এশিয়ার এ উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
তবে বন্ডটি ইস্যুর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)সহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন নিতে হবে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং খাতে টেকসই অর্থায়ন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের বন্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংকটির মূলধন ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।
প্রসঙ্গত, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৪ সালে। ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২৮২ কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ১২৮ কোটি ২৪ রাখ ৯৭ হাজার ৫৪৬টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৫০.৭০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৮.৫৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১০.৭৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।



