সূচক ও লেনদেনে মন্দা : সতর্ক অবস্থানে বিনিয়োগকারীরা

প্রতীকী ছবি
সপ্তাহ জুড়ে কিছুটা ইতিবাচক ধারা থাকলেও শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের সঙ্গে লেনদেনেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
দিনের শুরুতে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও দুপুর ১২টার আগে কিছুটা সংশোধনের চেষ্টা দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সবকটি সূচকের পতনেই শেষ হয়েছে দিনের লেনদেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সূচক ও লেনদেন কমলেও ডিএসইর নির্বাচিত কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। চলমান ‘আর্নিংস মৌসুম’ বা লভ্যাংশ ঘোষণার সময় হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ঝুঁকি কমাতে এবং নতুন আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করার ফলে সাময়িকভাবে লেনদেনের গতি কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবারের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য দেখিয়েছে ব্যাংক খাত। মোট লেনদেনের ২৪.৩৭ শতাংশই ছিল এই খাতের দখলে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থিতিশীল রিটার্ন এবং ভালো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশের প্রত্যাশায় বড় বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক শেয়ারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন বেশি।
১২.৪৪ শতাংশ লেনদেন করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। ১১.১৯ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। তবে এই খাতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে আর্নিংস ঘোষণার প্রভাবে ক্রয়চাপ থাকলেও জেনারেল ইন্স্যুরেন্স খাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার (প্রফিট টেকিং) প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
ব্রোকারেজ হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা পুরো বাজারের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ রাখছেন। বিশেষ করে ব্যাংক ও সিমেন্ট খাতের শেয়ারে বড় বিনিয়োগকারীদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। অন্যদিকে, টেক্সটাইল ও স্বল্পমূল্যের শেয়ারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেশি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে গুজবনির্ভর লেনদেন কমে ফান্ডামেন্টাল বা আর্থিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত। তবে যেসব খাতে আগে দর বেড়েছিল, বিশেষ করে জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সেখানে মূল্য সংশোধনের কারণে সামগ্রিক সূচকে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আজ দিন শেষে ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ পয়েন্ট কমে ৫২৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শরিয়াহ পরিপালন করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২ পয়েন্ট কমে ১০৫২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই৩০ ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২০১৭ পয়েন্টে।
লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইক্যুইটির মধ্যে দর বেড়েছে ১১৩টির, কমেছে ২২০টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬টির।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৯৩ পয়েন্ট কমে ১৪৮০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইক্যুইটির মধ্যে দর বেড়েছে ৬৫টির, দর কমেছে ১১৪টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির।
বৃহস্পতিবার দরবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস। প্রতিষ্ঠানটির দর বেড়েছে ৯.৯৪ শতাংশ। ৯.৯৩ শতাংশ দর বেড়েে আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজ রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ৯.৮০ শতাংশ দর বেড়ে রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। এই তালিকায় অন্য শেয়ার হলো মীর আক্তার হোসেন, বারাকা পাওয়ার, এটলাস বাংলাদেশ, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, নিয়ালকো এলোস, জাহিন স্পিনিং এবং আইসিবি ইমপ্লয়েস প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড।



