ব্যাংক-বীমা খাত ঘিরেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলমান আর্নিংস (লভ্যাংশ ঘোষণা) মৌসুম ঘিরে সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। লভ্যাংশ ঘোষণা সামনে রেখে সক্রিয়ভাবে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করেছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বাজারে সতর্কতা বজায় রাখতে প্রভাব ফেলেছে।
সপ্তাহের শুরুটা ইতিবাচক ধারায় হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ডিসেম্বরে ক্লোজিং ব্যাংক ও বীমা খাতের সম্ভাব্য ভালো আয়ের প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় শেয়ার কেনায় ঝোঁকেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সাম্প্রতিক আয় ও লভ্যাংশ ঘোষণার পর বড় বড় শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ায় সেই গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে ব্যাংক এবং বীমা খাতেই লেনদেন হয়েছে সব থেকে বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট লেনদেনের ৩৫.৫ শতাংশ হয়েছে এই খাতে।
এদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামের ওপর চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তোলে। ফলে অনেকেই দ্রুত লাভ তুলে নেওয়ার কৌশলে ঝুঁকেছেন, যা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে পুরো সপ্তাহজুড়ে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, যা বাজারের ভেতরের শক্তিমত্তার ইঙ্গিত দেয় এবং বিক্রির চাপকে অনেকাংশে সামাল দিয়েছে।
সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১.৭ পয়েন্ট কমে ৫,২৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ২ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট বা দশমিক ১০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২৪ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে দশমিক ২১ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।
অন্যদিকে, গড় লেনদেন ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ৯৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়তা ছিল ব্যাংক খাতে (১৮.৯%), এরপর সাধারণ বীমা (১৬.৬%) এবং ইঞ্জিনিয়ারিং (১১.৭%) খাতে।
খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে জীবন বীমা (২.৬%), সাধারণ বীমা (২.২%) এবং ব্যাংক (০.৮%) খাত শীর্ষে ছিল। বিপরীতে পাট খাত (-৬.৪%), সিরামিক (-৪.১%) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (-৪.০%) খাত সবচেয়ে বেশি দরপতনের মুখে পড়েছে।
এদিকে, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৭টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২৫টির। আর ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অংকে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
এছাড়া, লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— লাভেলো আইসক্রিম, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যমুনা ব্যাংক, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।



