পাঁচ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা, ছয় ব্যাংকের শূন্য

প্রতীকী ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স। একইদিনে ছয় ব্যাংকের পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কোম্পানিগুলোর পর্ষদ সভা শেষে প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) থেকে এসব জানা গেছে।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ বীমা কোম্পানিটি থেকে আগের বছরও ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
এরপরের অবস্থানে থাকা এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ১৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। যার পরিমাণ আগের বছরে ছিল ১০ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা ট্রাস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ব্যবসায় ১৩ শতাংশ (৮% নগদ ও ৫% বোনাস) লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার পরিমাণ আগের বছরে ছিল ১৫ শতাংশ (৭.৫০% নগদ ও ৭.৫০% বোনাস)।
এ ব্যাংকটির ২০২৪ সালে শেয়ারপ্রতি ৪.০৩ টাকা করে নিট ৩৭২ কোটি ৩২ লাখ টাকার মুনাফা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে কিছুটা কমে শেয়ারপ্রতি ৩.৩৮ টাকা করে ৩৩৬ কোটি টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। যাতে ব্যাংকটির লভ্যাংশেও পতন হয়েছে।
একইদিনে ছয়টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোন লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। এরমধ্যে মুনাফা সত্ত্বেও মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) পর্ষদ লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের লোকসানের কারনে লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এখনো দেউলিয়া না হলেও আসলে সেগুলোতে অনেক সমস্যা রয়েছে। আর এসব সমস্যার অনেকগুলো এরইমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও চোখে পড়েছে। বিশেষ করে, সরকারি আর বেসরকারি ব্যাংকখাতের নিজেদের ব্যালেন্সশিটে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে বলেও মনে করেন অনেক অর্থনীতিবিদ। এসব সমস্যাকে গুজব হিসেবে উড়িয়ে দেয়াটা সমস্যা অস্বীকার করার শামিল। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভবিষ্যতে এসব সমস্যা ব্যাংক খাতে আস্থার অভাব তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
নিম্নে কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
|
কোম্পানির নাম |
লভ্যাংশের হার |
ইপিএস (টাকা) |
রেকর্ড ডেট |
এজিএম |
|
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স |
১৫% নগদ |
২.৮৮ |
১৬ জুন |
১৪ জুলাই |
| এশিয়া প্যাসিফিক |
১৪% নগদ |
২.৫১ |
২১ মে |
৯ জুলাই |
| ট্রাস্ট ব্যাংক |
৮% নগদ ও ৫% বোনাস |
৩.৫৬ |
১১ জুন |
২৮ জুলাই |
|
প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স |
১০% নগদ |
১.৯৮ |
২১ মে |
১৫ জুন |
|
এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স |
৫% নগদ |
১.১৮ |
২১ মে |
১ জুলাই |
|
মার্কেন্টাইল ব্যাংক |
০০ |
১.১০ |
২১ মে |
২৪ জুন |
|
আল-আরাফাহ ব্যাংক |
০০ |
০.৭৪ |
৯ জুন |
২৯ জুলাই |
|
ইউসিবি |
০০ |
০.১৫ |
২০ মে |
১১ জুন |
|
ন্যাশনাল ব্যাংক |
০০ |
(৭.৫৫) |
১৫ জুন |
১৩ আগস্ট |
|
প্রিমিয়ার ব্যাংক |
০০ |
(৮.০৫) |
৩ জুন |
৮ জুলাই |
|
আইএফআইসি ব্যাংক |
০০ |
(১৩.৩২) |
২১ মে |
২৯জুন |
লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যবসায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। এ ব্যাংকটির ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি ১৩.৩২ টাকা করে ২ হাজার ৫৬০ কোটি ২২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এর আগের বছর ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি ০.৬৩ টাকা করে ১২০ কোটি ৬২ লাখ টাকার লোকসান হয়েছিল।
ব্যবসায় খারাপে এরপরের অবস্থানে রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। এ ব্যাংকটির ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি ৮.০৫ টাকা করে ৯৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। আর ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি ৭.৫৫ টাকা করে ২ হাজার ৪৩০ কোটি ৯০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।



