জাল সনদে শিক্ষকতা
চাকরি হারাচ্ছেন আরও ৪৭১ শিক্ষক
- হতে পারে ফৌজদারি মামলাও
- ফেরত দিতে হবে ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা

প্রতীকী ছবি
জাল সনদে চাকরি নেওয়া ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষায় জাল সনদ ধরার অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে অভিযুক্ত এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে শনাক্ত হওয়ায় চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এমন নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি)।
তারা কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন এমন প্রশ্নে মাউশি অধিদপ্তরে একজন কর্মকর্তা জানালেন, এর আগে ২০২৩ সালে একই অপরাধের দায়ে চাকরিচ্যুতর পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
তার মতে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিচের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। এরমধ্যে প্রথম ধাপে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে। জাল সনদ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের নিয়োগ বাতিল করে শুরু হবে তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া।
ডিআইএর সুপারিশ অনুযায়ী এসব শিক্ষকরা বেতন ভাতা হিসেবে যে অর্থ নিয়েছেন তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। এই অঙ্কের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে তাদের এমপিও সুবিধা। সরকারি ডেটাবেজ থেকে মুছে ফেলা হবে তাদের নাম।
সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নির্দেশনাও রয়েছে ফৌজদারি মামলা করার। সেটি করতে হলে অনুমতি লাগে মন্ত্রণালয়ের। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত যারা জেনেবুঝে এসব শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে প্রশাসনিক।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি জালিয়াতি হয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদে, যার সংখ্যা ২২৯ জন। এছাড়া এনটিআরসিএ সনদ বা শিক্ষক নিবন্ধন জাল করেছেন ১৯৪ জন। বাকিরা ব্যবহার করেছেন বিএড, বিপিএড ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের ভুয়া সনদ।
এর আগে গত ডিসেম্বরেও ১ হাজার ১৮৬ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত করা হয়েছিল, তাদের কাছে করা হয়েছিল ২৫৩ কোটি টাকা আদায়ের সুপারিশ।



