জেনারেশন হোপ গোলস
চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক দল

সংগৃহীত ছবি
তরুণ উদ্ভাবকদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রকল্প জলবায়ু কার্যক্রমভিত্তিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে। ১৩তম এশিয়া-প্যাসিফিক ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক আয়োজনে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। লবণাক্ততার অনুপ্রবেশে সৃষ্ট মারাত্মক সমস্যার সমাধানে কাজ করা দল ‘ইকো সেন্টিনেলস’ ব্রাইনঅ্যাওয়ে নামের প্রকৃতিনির্ভর একটি পানি পরিশোধন ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ ও হ্যালোফাইট উদ্ভিদ ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি পানির লবণাক্ততা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। নারী নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা-ভিত্তিক বিতরণ মডেলের মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পানি পৌঁছে দিচ্ছে এ উদ্যোগ।
বিশ্বের ১,৪০০ তরুণ উদ্যোক্তাদের ৩৩০টিরও বেশি আবেদন থেকে নির্বাচিত এই বিজয়ী জলবায়ু সমাধানটি প্রমাণ করে পরবর্তী প্রজন্ম কীভাবে বিশ্বের বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ও সম্প্রসারণযোগ্য সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসছে। ইকো সেন্টিনেলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল ইসলাম শুভ বলেন, ‘উদ্ভাবন ও কমিউনিটি অ্যাকশনের মাধ্যমে লবণাক্ততার বিরুদ্ধে লড়াই করাই আমাদের লক্ষ্য। লবণকে সমাধানে রূপান্তর করে আমরা শুধু পানি বিশুদ্ধ করছি না; বরং একসময় ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিগুলোকে স্থিতিশীল ও সহনশীল বাস্তুতন্ত্রে পরিণত করছি— যেখানে শিশুরা আর পানিবাহিত রোগের কারণে স্কুল মিস করবে না।’
‘জেনারেশন হোপ গোলস’ উদ্যোগটি সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউএন ইএসক্যাপ, ইউএনডিপি, বৌদ্ধ ত্সু চি ফাউন্ডেশন, ইয়েক্যাপ, ইউএনএফসিসিসি আরসিসি এশিয়া-প্যাসিফিক এবং চাইল্ডফান্ড ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগ। চলতি বছরে প্রতিযোগিতায় ১৪–২৪ বছর বয়সী তরুণদের আহ্বান জানানো হয়েছিল— জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ব্যবহারিক সমাধান নকশা করতে; যার মধ্যে রয়েছে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, শিল্প-উদ্ভাবন ও অবকাঠামো, টেকসই শহর ও কমিউনিটি এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও ইএসক্যাপ নির্বাহী সচিব আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ এই অঞ্চলে বাস করে যা বিপুল সম্ভাবনার ধারক। তরুণদের নেতৃত্বে নেওয়া সমাধান ইতোমধ্যেই কমিউনিটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। তরুণ উদ্যোক্তারা গ্রিন স্টার্টআপ গড়ে তুলছে, তরুণ উদ্ভাবকেরা ডিজিটাল টুলের মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিসর বাড়াচ্ছে, আর তরুণ নেতারা জলবায়ু কার্যক্রমকে জোরদার করে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করছে। এসব সমাধান বাস্তবে প্রয়োগ করার উপযোগী, সম্প্রসারণযোগ্য এবং একই সাথে তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক।’
ইউএনডিপি ব্যাংকক রিজিওনাল হাবের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর ও পরিচালক বিটে ট্রাঙ্কমান বলেন, ‘তরুণরা আশা-চালিত একটি প্রজন্ম যাদের পরিচয় নির্ধারিত হয় চ্যালেঞ্জে নয়, বরং তাদের ভাবনা ও উদ্যোগে। জেনারেশন হোপ গোলস মানে ‘হোপ ইন অ্যাকশন’— যেখানে তরুণরা দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ দেয়। ইউএনডিপিতে আমরা এমন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছি, যেখানে তরুণ নেতারা উদ্ভাবন করতে, সহযোগিতা গড়ে তুলতে এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারেন। জ্ঞান ভাগাভাগি, ধারণা পরীক্ষা এবং প্রজন্ম ও সীমান্ত পেরিয়ে কাজের সুযোগ দিয়ে আমরা নিশ্চিত করি—এসডিজি ত্বরান্বিত ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রে তরুণ নেতৃত্বই থাকবে।’
সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক আরশাদ মালিক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের সবার ওপর প্রভাব ফেললেও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে এবং অনুপাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্বজুড়ে শিশুরা তাদের কণ্ঠ তুলে ধরছে, সমাধান শেয়ার করছে এবং পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে— তারা ইতোমধ্যেই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ছে। আজকের বিজয়ী দলটি তরুণ নেতৃত্ব, বাস্তব প্রভাব, সম্প্রসারণযোগ্যতা এবং সত্যিকার অর্থে উদ্ভাবনী সমাধান প্রদর্শনের মাধ্যমে আলাদা করে নজর কেড়েছে।’



