ইতিহাস গড়ল কোরিয়ান সিনেমা ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’

দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়েছে ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে এই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি। পরিবেশক প্রতিষ্ঠান শো বক্স জানিয়েছে, শনিবার সকাল পর্যন্ত ছবিটি মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার দর্শক টেনেছে, যা ২০১৯ সালের জনপ্রিয় কমেডি অ্যাকশন ‘এক্সট্রিম জব’ ছবির ১ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার দর্শকের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ছবিটি এখন কোরিয়ান সিনেমার ইতিহাসে সর্বাধিক দর্শক সংখ্যার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।
তবে সর্বকালের শীর্ষ অবস্থানে এখনো রয়েছে ২০১৪ সালের যুদ্ধভিত্তিক মহাকাব্যিক ছবি ‘দ্য অ্যাডমিরাল: রোরিং কারেন্টস’, যার দর্শক সংখ্যা ১ কোটি ৭৬ লাখ। সেই রেকর্ড ভাঙতে ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’-এর অবশ্য খুব বেশি সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে না।
আয়ের দিক থেকে অবশ্য ছবিটি এরই মধ্যে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এখন পর্যন্ত এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৫৬.৯ বিলিয়ন ওন, যা ‘দ্য অ্যাডমিরাল: রোরিং কারেন্টস’-এর ১৩৫.৭ বিলিয়ন ওনের আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ দর্শক সংখ্যায় দ্বিতীয় হলেও, এটি কোরিয়ান বক্স অফিসের সবচেয়ে বেশি আয় করা চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে আয় বিবেচনায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ের বক্স অফিস পরিস্থিতি ছবিটির জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। শুক্রবারের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক টিকিট বিক্রিতে এটি তৃতীয় স্থানে ছিল। ওইদিন প্রায় ৩৮ হাজার টিকিট বিক্রি হয় ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’ ছবির, যেখানে শীর্ষে থাকা ভৌতিক ঘরানার ছবি ‘সালমকজি’ বিক্রি করে ১ লাখ ১১ হাজার টিকিট এবং হলিউডের ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ বিক্রি করে ৫৬ হাজার টিকিট।
জাং হ্যাং-জুন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে কল্পনার মিশেলে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। গল্পে দেখা যায় গ্রামের প্রধান ইউম হিউং-ডো (ইউ হাই-জিন) এবং জোসন রাজবংশের পদচ্যুত রাজা দানজং (পার্ক জি-হুন)-এর মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। গ্রামের জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে এই সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়। ছবিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে একজন সাধারণ গ্রামের নেতা এবং একজন তরুণ রাজা একে অপরের জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসে।
চলচ্চিত্রটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ইউ হাই-জিনের অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। তিনি শুরুতে এক উচ্চাভিলাষী, স্বার্থপর গ্রামপ্রধান থেকে দায়িত্বশীল ও মানবিক চরিত্রে অভিনয় করেন। তরুণ রাজা দানজংয়ের যন্ত্রণা, সংগ্রাম এবং ধীরে ধীরে সাহসী হয়ে ওঠার গল্পও দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে গেছে।
তবে সমালোচকদের মতে, চলচ্চিত্রটির গল্পের কাঠামো কিছুটা এলোমেলো। শুরুতে এটি ব্যঙ্গাত্মক ও হালকা কমেডি হিসেবে থাকলেও পরে ধীরে ধীরে সামাজিক বার্তা, আবেগঘন সম্পর্কনির্ভর এবং রাজনৈতিক থ্রিলারের মিশ্রণে রূপ নেয়, যা কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে।
সূত্র: কোরিয়ান টাইমস



