‘ধুরন্ধরে’র জবাবে পাকিস্তানি সিনেমা ‘মেরা লিয়ারি’

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ারের জন্য প্রস্তুত পাকিস্তানি সিনেমা ‘মেরা লিয়ারি’। নির্মাতারা ছবিটিকে বলিউডের ‘ধুরন্ধর’ ছবির জবাব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’ করাচির লিয়ারি অঞ্চলকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘মেরা লিয়ারি’ লিয়ারির ভিন্ন এক চিত্র। বিশেষ করে মেয়েদের জীবন, তাদের স্বপ্ন এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।
ছবিটি প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ইউকে অ্যাসিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে। উৎসবটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশীয় সিনেমা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
‘মেরা লিয়ারি’ ছবির নির্বাহী প্রযোজক ও অভিনেত্রী আয়েশা ওমর জানান, এটি এমন একটি মুহূর্ত যা লিয়ারির চেতনা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেবে। ছবিটি আগামী ২ মে লন্ডনের সাউথব্যাঙ্কে অবস্থিত ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটেও প্রদর্শিত হবে এবং এর টিকিট এরই মধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন আয়েশা ওমর। এ ছাড়া রয়েছেন দানানীর মোবিন, সামিয়া মুমতাজ, নইয়ার এজাজ, পারাস মাসরুর, আদনান শাহ টিপু ও শোয়েব হাসান। এর মধ্যে আলোচিত পাকিস্তানি টিভি ধারাবাহিক ‘মিম সে মহব্বত’-এ অভিনয় করে দানানীর বাংলাদেশেও বেশ পরিচিত।
ছবিটিতে আরও রয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় মডেল ট্রিনেট লুকাস। এই ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক করছেন তিনি। লুকাস সামাজিক মাধ্যমে সহশিল্পী ও টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই প্রজেক্টকে একদিকে রোমাঞ্চকর, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জিং এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন এক প্রতিবন্ধী নারী ফুটবল কোচ। যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আয়েশা ওমর। দীর্ঘদিন পর তিনি নিজের এলাকা লিয়ারিতে ফিরে এসে স্থানীয় মেয়েদের জন্য ফুটবল ট্রায়াল আয়োজন করেন। সেখানে কঠোর পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আফসানা চরিত্রে দানানীর মোবিন এবং জোরপূর্বক বিয়ের হাত থেকে পালিয়ে আসা কুশমালা চরিত্রে ট্রিনেট লুকাস গোপনে কোচের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে। ফুটবল তাদের কাছে হয়ে ওঠে মুক্তির পথ এবং নিজেদের প্রমাণ করার একটি সুযোগ, যেখানে তাদের লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া।
পরিচালক আবু আলীহা জানিয়েছেন, ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর বাস্তবধর্মিতা। পুরো চলচ্চিত্রটি লিয়ারিতেই ধারণ করা হয়েছে এবং এতে অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই ওই এলাকার বাসিন্দা। সহ-অভিনেতা, স্থানীয় ফুটবল দলের সদস্য থেকে শুরু করে প্রধান চরিত্রে থাকা শিল্পীদের মধ্যেও লিয়ারির মানুষ রয়েছেন, যা গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
চলচ্চিত্রটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনায়ও জায়গা করে নিয়েছে। সিন্ধুর তথ্যমন্ত্রী শারজিল মেমন এই ছবিকে ভারতের ‘নেতিবাচক প্রচারণার জবাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সূত্র: গালফ নিউজ



