‘ধুরন্ধর’ হয়ে ওঠার পেছনের গল্প সহজ ছিল না

রণবীর সিং
বলিউডে এখন একটাই নাম রণবীর সিং। চারদিকে শুধু ‘ধুরন্ধর’ আর ‘ধুরন্ধর ২’ এর জয়জয়কার। বক্স অফিস তো কাঁপছেই, সাথে ভক্তদের মনেও রাজত্ব করছেন এই অভিনেতা। কিন্তু এই যে রণবীরের রাজকীয় দাপট, এটা কি হুট করেই হয়েছে? একদমই না। আজকের এই ধুরন্ধর রণবীর হয়ে ওঠার পেছনে আছে বছরের পর বছর ধরে নেওয়া বড় বড় সব রিস্ক আর নিজেকে বারবার ভেঙে গড়ার গল্প।
২০১০ সালে ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ দিয়ে যখন অভিষেক হলো, তখন অন্য নায়কদের মতো তিনি হ্যান্ডসাম হিরো সাজার চেষ্টা করেননি। দিল্লির পাড়ার বখাটে কিন্তু সরল ছেলে ‘বিট্টু শর্মা’ সেজে সবার নজর কেড়েছিলেন। লোকে ভেবেছিল, এই নতুন ছেলেটা এত সাবলীল অভিনয় করে কীভাবে? সেই শুরু হলো তার যাত্রা।
সঞ্জয় লীলা বানসালির হাত ধরে ‘রাম-লীলা’ সিনেমায় যখন রণবীর এলেন, দর্শক দেখল এক অন্য রণবীরকে। পর্দার সেই তীব্র ভালোবাসা আর দীপিকা পাড়ুকোনের সাথে তার সেই আগুনঝরা রসায়ন আজও মানুষের মুখে মুখে। শুধু রোমান্স নয়, অভিনয়ের গভীরতা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।
অধিকাংশ নায়ক ভিলেন হতে ভয় পান, কিন্তু রণবীর ছিলেন উল্টো। ‘পদ্মাবত’ সিনেমায় আলাউদ্দিন খিলজি সেজে তিনি রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন পর্দায়। তার সেই বন্য চাউনি আর পাগলাটে স্বভাব দেখে মানুষ তাকে ঘৃণা করতে চেয়েও পারেনি, উল্টো তার অভিনয়ের প্রেমে পড়েছে।
কখনও বস্তির সাধারণ ছেলে মুরাদ হয়ে ‘আপনা টাইম আয়েগা’ গানে তারুণ্যকে জাগিয়ে তুলেছেন, আবার কখনও ‘৮৩’ সিনেমায় জীবন্ত কিংবদন্তি কপিল দেব হয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন। এমনকি ‘সিম্বা’ সিনেমায় পুরোদস্তুর কমার্শিয়াল হিরো হিসেবেও তিনি সুপারহিট।
আজকের ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় রণবীর সিং যে ম্যাজিক দেখাচ্ছেন, তা আসলে তার আগের সব অভিজ্ঞতার মিশেল। বাজিরাওয়ের তেজ, খিলজির উন্মাদনা আর সিম্বার স্টাইল সব মিলিয়ে রণবীর এখন বলিউডের এমন এক উচ্চতায়, যেখানে পৌঁছানো অনেকের জন্যই স্বপ্ন। এক কথায়, তিনি এখন অপ্রতিরোধ্য।

