ভোট গণনার দিনে তিরুপতিতে তৃষা, বিজয়ের দলের জন্য কি বিশেষ প্রার্থনা?

তিরুপতি মন্দিরে তৃষা।
অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান গত রাতে নিজের ৪৩তম জন্মদিনের প্রাক্কালে হাজির হয়েছেন তিরুপতি মন্দিরে। তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে তিরুপতির পথে রওনা হতে দেখা যাচ্ছে। পরদিন ভোরে তিনি মন্দিরে পূজা দিয়েছেন অত্যন্ত শান্তভাবে এবং কোনো রকম জাঁকজমক ছাড়াই। ভক্তরা লক্ষ করেছে তিনি কোনো ভিড় বা হট্টগোল ছাড়াই ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের আশীর্বাদ নিয়েছেন নিজের বিশেষ এই দিনটি উদ্যাপনের জন্য।
তৃষার এই ধর্মীয় সফর ঢুকে পড়েছে এখন সরাসরি রাজনীতির ময়দানে। অনেকে দাবি করছেন, তার এই সফরের সময়টা মিলে গেছে ঠিক তামিলনাড়ু নির্বাচনের ভোট গণনার দিনের সঙ্গে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে অভিনেতা বিজয় তার নতুন দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগম’ নিয়ে লড়াই করছেন এবং আজ ৪ মে চলছে সেই ভোটের মহাগণনা। নেটিজেনরা বলছেন, তৃষার এই প্রার্থনা হয়তো তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক সাফল্যের জন্যই নিবেদিত।
তৃষা কৃষ্ণান গত ২৩ এপ্রিল ভোট দেওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছিলেন যা নিয়ে জল্পনা চলছে অনেক দিন ধরেই। ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, সেই পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিজয়কে এক প্রকার নীরব সমর্থন জানিয়েছিলেন।
বিজয়ের জন্য তিনি মনে মনে প্রার্থনা করছেন কি না, তা নিয়ে এখন চলছে চায়ের কাপে আলোচনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এই সফরের পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
বিজয় ও তৃষাকে গত মার্চ মাসে চেন্নাইয়ের একটি বিয়েবাড়িতে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল এবং সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি নিয়ে দর্শকরা সবসময়ই অনেক বেশি কৌতূহলী।
এর মধ্যেই বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন এবং তার স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের খবর নিয়ে বইছে আলোচনার প্রবল বাতাস। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাদের বিচ্ছেদের আবেদনের খবরটি এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।
তৃষার এই তিরুপতি সফর এখন আর কেবল একটি সাধারণ জন্মদিন উদ্যাপন হয়ে নেই। তারকা খ্যাতি, রাজনীতি আর ব্যক্তিগত সম্পর্কের এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে এই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
বর্তমানে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনে একযোগে ভোট গণনা চলছে। থালাপতির দল টিভিকে এগিয়ে আছে ১১০ আসনে।
তামিলনাড়ুর মসনদে কে বসবে, তা যখন আজ স্পষ্ট হয়ে যাবে; তখন তৃষার এই নীরব প্রার্থনা ভক্তদের মনে অনেক বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই আধ্যাত্মিক যাত্রার ফল বিজয়ের রাজনৈতিক ভাগ্যে আসলেই প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




