নাসির আলী মামুনকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র 'ছায়াবন্দনা', যুক্তরাজ্যে প্রিমিয়ার

পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফিতে স্বকীয় এক শৈলীর নির্মাতা নাসির আলী মামুনের ফটোগ্রাফিক যাত্রা নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র 'মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোস, ছায়াবন্দনা'। এটি নির্মাণ করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি নির্মাতা মকবুল চৌধুরী।
আগামী ৩ মে লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনের সিটি সিনেমায় ইউকে এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবের ২৮তম আসরে এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। প্রদর্শনীর পর অনিতা হোরামের সঞ্চালনায় ব্রিটিশ বাংলাদেশি নির্মাতা মকবুল চৌধুরী অংশগ্রহণ করবেন একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে।
৬৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই প্রামাণ্যচিত্রটি নাসির আলী মামুনের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি বিস্তারিত কাজ। একজন নিরলস শিল্পীর শ্রম, সংগ্রাম ও ধ্যানের যাত্রা তুলে আনা হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রে।
গত চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন নাসির আলী মামুন। সত্তরের দশকে তিনিই প্রথম বাংলাদেশে এই শিল্পধারার সূচনা করেন। তিনি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রায় সহস্রাধিক কবি, শিল্পী, লেখক ও রাজনীতিবিদদের প্রতিকৃতি ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুখদের ছবি মামুন এমন এক সময়ে তুলেছেন যা তার সামগ্রিক কাজকে এক জলজ্যান্ত আর্কাইভে রূপান্তরিত করেছে।
নির্মাতা মকবুল চৌধুরী পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ব্যয় করে নির্মাণ করেছেন এই ছবিটি। এই সময়ে ঢাকা, কলকাতা থেকে শুরু করে সূদুর প্যারিস ও নিউইয়র্কসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নাসির আলী মামুনের সঙ্গী হয়ে তার শিল্পযাত্রার অনুসন্ধান ও বিভিন্ন গুণীজনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ইতিহাস তিনি ক্যামেরার সাহায্যে দলিলবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। এই প্রয়াস ইতোমধ্যে শিল্প অনুরাগী এবং সমঝদারদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে।
ভারতবর্ষের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের উৎসবগুলোর মধ্যে ইউকে এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব অন্যতম। উৎসবটির এই বছরের থিম 'স্টোরিজ দ্যাট বাইন্ড আস' এমন গল্পগুলোকে উৎসাহ যোগায়, যা বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে।
এই চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে উৎসব কর্তৃপক্ষ লিখেছে, মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোস নেহাতই কোনো প্রামাণ্যচিত্র নয়, এটি নাসির আলী মামুনের চিন্তা ও শিল্পজগতে এক পরিভ্রমণ। এই শিল্পীর তোলা প্রতিকৃতিগুলো একটি জাতির আত্মা ও তার সামগ্রিক পরিপার্শ্বকে ধারণ করে। স্থিরচিত্রের সঙ্গে চলচ্চিত্রের গল্পকথনের কায়দা যুক্ত করে এই ছবিটি শিল্পীর কাজের পেছনে থাকা অনুভূতি, দর্শন ও তার নীরব শক্তিকে তুলে ধরেছে যার কাজে প্রতিটি চেহারা হাজির হয় একেকটা গল্পের আকারে।



