মামলার ফাঁদে ‘অ্যাভাটার’ পরিচালক জেমস ক্যামেরন, কী অভিযোগ তার বিরুদ্ধে?

জেমস ক্যামেরুন
দুনিয়া কাঁপানো সিনেমা ‘অ্যাভাটার’ নিয়ে এবার লেগেছে এক বিশাল লঙ্কাকাণ্ড। বিখ্যাত পরিচালক জেমস ক্যামেরন আর ডিজনি কোম্পানি পড়েছেন এখন মামলার চক্করে।
অভিযোগ উঠেছে, ক্যামেরন সাহেব এ সিনেমার প্রধান চরিত্র নেইতিরির চেহারা তৈরি করেছেন এক আদিবাসী কিশোরী অভিনেত্রীর মুখ থেকে হুবহু নকল করে।
কোরিয়াঙ্কা কিলচার নামের ওই অভিনেত্রী দাবি করছেন, তার অনুমতি না নিয়েই পরিচালক নাকি তার চেহারার সব বৈশিষ্ট্য চুরি করে নিয়েছেন। সেই ২০০৫ সালে ‘দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’ সিনেমার এক বিজ্ঞাপন দেখেই পরিচালক মজেছিলেন এ কিশোরীর রূপের জাদুতে।
মামলার কাগজপত্রে বলা হয়েছে, হলিউডের প্রভাবশালী এ পরিচালক এক আদিবাসী মেয়ের গায়ের রঙ আর মুখের আদল ব্যবহার করেছেন কোটি কোটি টাকা কামানোর ধান্দায়। অথচ সেই মেয়েটিকে তিনি দেননি কোনো পাওনা বা নামধাম।
যে সিনেমা আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে বড় বড় কথা শোনায়, তারাই নাকি পর্দার আড়ালে এক আদিবাসী কিশোরীকে করেছেন চরম শোষণ। যদিও সিনেমায় আমরা নেইতিরি হিসেবে দেখি জো সালদানাকে; কিন্তু পর্দার পেছনের আসল কারিগর নাকি ছিলেন কিলচার। এ জবরদস্তি করে রূপ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা এখন সিনেমা পাড়ায় তুলেছে বিতর্কের ঝড়।
ঘটনা কিন্তু এখানেই শেষ নয়, ২০১০ সালের এক মোলাকাতের গল্প আছে এর পেছনে। সিনেমার সাফল্যের পর এক অনুষ্ঠানে ক্যামেরন সাহেব নিজে কিলচারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তার আঁকা নেইতিরির একখানা স্কেচ। সঙ্গে এক চিরকুটে লিখেছিলেন, কিলচারের সৌন্দর্য দেখেই তিনি নেইতিরির চরিত্র গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
অথচ সে সময় কিলচারের এজেন্ট অনেক চেষ্টা করেও পরিচালকের কাছ থেকে অডিশনের কোনো ডাক পাননি। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কেন তাকে না জানিয়েই তার মুখশ্রীকে করা হলো সিনেমার পুঁজি।
কিলচার আক্ষেপ করে বলেছেন, তিনি নিজেও এ সিনেমাকে মন থেকে বিশ্বাস করেছিলেন আর ভালোবেসেছিলেন। তিনি ভাবতেও পারেননি যে, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কেউ এভাবে অজান্তে তার চেহারাকে বসিয়ে দেবেন এক প্রোডাকশন লাইনে।
গত বছর ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও দেখে তার টনক নড়ে যে, পরিচালক কতটা সরাসরি তার চেহারার কথা স্বীকার করেছেন। সেখানে ক্যামেরন সাহেব ভিডিওতে দাঁড়িয়ে বলছেন, কিলচারের মুখের নিচের অংশ দেখেই তিনি নেইতিরির অবয়ব তৈরি করেছেন। এ চুরির ঘটনা নিয়ে কিলচার এখন নিয়েছেন আইনি লড়াইয়ের কঠিন সিদ্ধান্ত।
কিলচারের আইনজীবী তো একেবারে রে রে করে উঠেছেন পরিচালকের এ কায়দাকানুন দেখে। তিনি বলছেন, ক্যামেরন সাহেব যা করেছেন তা কোনো অনুপ্রেরণা নয়, বরং ছিল এক ধরনের লুণ্ঠন। এক ১৪ বছরের বাচ্চার মুখের বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিনি বানিয়েছেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা।
তার মতে, অনুমতি না নিয়ে অন্যের শরীরের অংশ ব্যবহার করা কখনোই সিনেমা বানানো হতে পারে না, বরং এটা হলো সরাসরি ডাকাতি। এখন দেখার বিষয়, এ চেহারার লড়াই শেষ পর্যন্ত আদালতপাড়ায় কোন দিকে মোড় নেয়।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান





