মাল্টিপ্লেক্সে সন্ধ্যার সব শো স্থগিত

প্রতীকী ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তাই জ্বালানি সাশ্রয়ে কার্যকর হয়েছে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত। এ কারণে বিভিন্ন শপিংমলে অবস্থিত মাল্টিপ্লেক্সে আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্ধ্যা ও রাতের শো চালানোর সুযোগ নেই। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে হতাশ সিনেমাপ্রেমীরা। কারণ দর্শকদের অনেকাংশ সন্ধ্যার পরেই ভিড় করেন প্রেক্ষাগৃহে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্টার সিনেপ্লেক্সের আটটি শাখায় ৫ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যায় থাকছে না কোনও শো। দেশের সবচেয়ে বৃহৎ মাল্টিপ্লেক্সটি ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফায়েড পেজে জানিয়েছে এই তথ্য। স্টার সিনেপ্লেক্স রবি ও সোমবারের অগ্রিম টিকিট বিক্রি না করায় রিফান্ড জটিলতায় পড়তে হচ্ছে না দর্শকদের।
যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ব্লকবাস্টার সিনেমাসও আজ থেকে চালাবে না সন্ধ্যার কোনও শো। গতকাল শনিবার ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফায়েড পেজে এই মাল্টিপ্লেক্স এক ঘোষণায় উল্লেখ করেছে, ‘সরকারের সাম্প্রতিক জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর সকল দোকান আর মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় আমাদের পূর্বনির্ধারিত প্রতিদিনের সন্ধ্যার শোগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে। আজ থেকে কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত।’
ব্লকবাস্টার সিনেমাস অগ্রিম টিকিট বিক্রি করায় বিপাকে পড়েছেন দর্শকেরা। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে একই ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, ‘রবিবার থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর সংশ্লিষ্ট শোগুলোর জন্য যারা অগ্রিম টিকিট ক্রয় করেছেন, তাদের সকলকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রিফান্ড প্রদান করা হবে।’
দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে এখন চলছে ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘প্রিন্স’। কিন্তু সন্ধ্যার পর শো স্থগিত রাখতে বাধ্য হওয়ায় ব্যবসায়িকভাবে ধাক্কা খাওয়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘কয়েক বছর ধরে দেশীয় সিনেমা কেবল ঈদেই মুক্তি দিচ্ছেন নির্মাতারা’— আগামীর সময়কে এমনটাই জানালেন স্টার সিনেপ্লেক্সের এজিএম (মিডিয়া ও মার্কেটিং) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তার মতে, ‘এ কারণে ঈদেই কিছুটা ব্যবসার সুযোগ থাকে আমাদের। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়িকভাবে কিছুটা হোঁচট খেতে হচ্ছে। কারণ অফিস-আদালত ছুটির পর সন্ধ্যা থেকেই দর্শকদের সিংহভাগ সিনেপ্লেক্সে আসেন। কিন্তু দর্শকবান্ধব সময়ে সিনেমাহল বন্ধ করে ফেলতে হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে সন্ধ্যার সব শো স্থগিত রাখছি আমরা।’



