‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ ভেড়াবে না বিজয়, সমর্থন দেবে কংগ্রেস

থালাপতি বিজয় ও রাহুল গান্ধী
বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সাফল্যের পর তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জন্য টিভিকে (তামিলগা ভেট্রি কাজগম) পার্টিকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। তবে একটিই শর্ত— জোটে থাকতে পারবে না কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তি।
অভিনেতা থেকে জননেতা হওয়া থালাপতি বিজয় তার দলকে রাজ্যের একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাজ্যের ২৩৪ আসনের মধ্যে দলটি জিতেছে ১০৮টি আসন। যে দল বা জোট ১১৮ বা তার বেশি আসন পাবে, তারাই সরকার গঠন করতে পারবে। আর ১০টি আসন পেলেই ক্ষমতায় আসবে টিভিকে।
এই ফলাফলের মাধ্যমে অবসান ঘটেছে ৬২ বছর ধরে চলা দ্রাবিড় দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দ্বৈত আধিপত্যের। বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ডিএমকের আসনসংখ্যা নেমে এসেছে ৫৯‑এ, আর এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। বিজয় ইতোমধ্যেই ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের সমর্থন পেলে টিভিকের মোট বিধায়ক সংখ্যা হবে ১১৯ জন, অর্থাৎ তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছাড়াবে।
চেন্নাইয়ে টিভিকে নেতারা এআইএডিএমকে প্রধান এডাপাডি পালানিসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎকে অনেকেই বিজেপি-এআইডিএমকে জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, কারণ এআইএডিএমকে বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে।
কংগ্রেসের অবস্থান ও শর্ত
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির তামিলনাড়ু ইনচার্জ গিরিশ চোদানকর এক বিবৃতিতে জানান, তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি ও কংগ্রেস আইনসভা দল সরকার গঠনে টিভিকে পার্টিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সমর্থন শর্তসাপেক্ষ। যেসব সাম্প্রদায়িক শক্তি ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করে না, তাদের জোটে না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।’
জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কংগ্রেস জানিয়েছে, টিভিকের সঙ্গে তাদের জোট হয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে, যা শুধু সরকার গঠনের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের স্থানীয় সংস্থা, লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দুটি দলই তামিলনাড়ুর উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে যৌথভাবে ভূমিকা রাখতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যপাল সাধারণত একটি বৃহত্তম দলকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিজয়কে ছোট দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে। টিভিকে সূত্র বলছে, আগামীকালই শপথ নেবেন বিজয়। দলের প্রচার সম্পাদক নানজিল পি সাম্পাত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, বাদবাকি সমর্থন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে আসবে।
বিজয় ও রাহুল গান্ধী যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন, তামিলনাড়ুর জনগণের এই ঐতিহাসিক রায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে তরুণদের স্বপ্ন পূরণে তারা কাজ করবেন। একই সঙ্গে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে তারা।
বিজয়ের এই উত্থান শুধু আসনসংখ্যার লড়াই নয়, বরং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি, ভক্ত সমাজ থেকে রাজনৈতিক সমর্থক পাওয়া এবং আধুনিক প্রচার কৌশলের ফলাফল। ‘শিস’ প্রতীককে কেন্দ্র করে জনআন্দোলনের আবহ তৈরি থেকে শুরু করে করপোরেট ধাঁচের ক্যাডার নিয়োগ— এ সবই টিভিকে পার্টিকে গতিশীল করেছে।



