আগামীর সময়

রিভিউ

ভয়, সাহস আর বাঁচার লড়াই ‘ওয়ার মেশিন’

ভয়, সাহস আর বাঁচার লড়াই ‘ওয়ার মেশিন’

সংগৃহীত ছবি

কিছু সিনেমা শেষ হওয়ার পরও মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে। দৃশ্যগুলো বারবার ফিরে আসে। সংলাপ, শব্দ, বিস্ফোরণ আর চরিত্রের মুখভঙ্গি মনে গেঁথে যায়। সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘ওয়ার মেশিন’ দেখার পর আমার ঠিক এমনই অনুভূতি হয়েছিল।

সাধারণত সায়েন্স ফিকশন সিনেমাতে প্রযুক্তি আর ভিএফএক্স এত বেশি হয়ে যায় যে গল্পের বাস্তবতা অনেক সময় হারিয়ে যায়। কিন্তু ‘ওয়ার মেশিন’ সেখানে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলেও সিনেমার বড় শক্তি এর বাস্তবধর্মী পরিবেশ। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক লোকেশন, বাস্তব পাহাড়, বন আর দুর্গম ভূ-প্রকৃতি এবং বাস্তবধর্মী অ্যাকশন দৃশ্য পুরো গল্পটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। এর সঙ্গে ভয়, সাহস আর বাঁচার তাগিদকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে অনেক সময় মনে হয় যেন বাস্তব কোনো সামরিক অভিযানের ভিডিও ফুটেজ দেখছি।

গল্পের শুরুটাও খুব সাধারণভাবে এগোয়। রেঞ্জার প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ের একটি মিশন। একদল তরুণ সেনা কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে। কিন্তু সেই রুটিন মিশন হঠাৎই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। তারা মুখোমুখি হয় অজানা উৎসের এক ভয়ংকর যুদ্ধযন্ত্রের। সেটি কি মানুষের তৈরি কোনো উন্নত প্রযুক্তি, নাকি ভিনগ্রহের এলিয়েন মেশিন? শুরুতে কেউই তা বুঝে উঠতে পারে না। কিন্তু খুব দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যায়, তারা এমন এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে, যার সামনে তাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র আর কৌশল সবই কঠিন পরীক্ষার মুখে।

এই সিনেমাটি দেখার সময় আরেকটি বিষয় বারবার মনে হচ্ছিল। আমি কি সত্যিই একটি সিনেমা দেখছি, নাকি ভবিষ্যতের কোনো বাস্তব যুদ্ধের পূর্বাভাস? পাহাড়ি অন্ধকারে অদ্ভুত শব্দ তুলে এগিয়ে আসা সেই যুদ্ধযন্ত্র, আতঙ্কিত কিন্তু দৃঢ়সংকল্প সৈনিকদের মুখ, আর একের পর এক বিস্ফোরণের দৃশ্য বারবার মনে পড়ছিল।

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন প্যাট্রিক হিউজেস আর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যালান রিচসন। রিচসনের অভিনয়ের তো আলাদা কোনো ব্যাখ্যা লাগে না। সিনেমার শেষের দিকে, যুদ্ধে আহত এক সৈনিককে স্ট্রেচারে বেঁধে পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পথদৃশ্য নাছোড়, বারবার তাদের পথ আটকাচ্ছিল। শরীর কাঁপছে, পা পিছলে যাচ্ছে, তবুও তার চোখে দৃঢ় সংকল্প, হৃদয়ে সাহস এবং সহকর্মীর প্রতি অটল দায়িত্ববোধ। আহত সৈনিকটির চোখে ভয় ও যন্ত্রণার ছাপ, আর টিম লিডার রিচসনের হৃদয়ে তার বাঁচার আশার ঝিলিক। নিজের শরীরও আহত, প্রচণ্ড ক্লান্তি চাপাচ্ছে, তবুও তিনি থেমে থাকেন না।

ভালো সিনেমা আসলে এমনই। পর্দা নিভে যাওয়ার পরও গল্প শেষ হয় না। দর্শকের ভেতরে এটি আরও কিছু সময় বেঁচে থাকে। যারা রোমাঞ্চ ও বাস্তবসম্মত অ্যাকশন উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা। এটি ৬ মার্চ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় এবং এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ভিউতে টপ টেনের প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে।

    শেয়ার করুন: