রিকশাচালকের সঙ্গে ঔপন্যাসিকের ‘পথের প্যাঁচাল’

’পথের প্যাঁচাল’-এর পোস্টারে বহ্নি হাসান ও ইয়াশ রোহান (ছবি: চরকি)
বায়েজিদের দিন কাটে রিকশা চালিয়ে। তার জীবনে অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে যায় উমা। সে একজন নবীন ঔপন্যাসিক। নিজের প্রথম উপন্যাস প্রকাশের চেষ্টা করছে মেয়েটি। এমন দুটি ভিন্ন সামাজিক অবস্থানে থাকা চরিত্রের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক ও কথোপকথন নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘পথের প্যাঁচাল’। এতে বায়েজিদ চরিত্রে ইয়াশ রোহান ও উমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বহ্নি হাসান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চরকির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফ্ল্যাশ ফিকশনটির পোস্টারে একঝলক দেখা গেছে তাদের। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আগামী ৬ মে রাত ১২টায় মুক্তি পাচ্ছে এটি।
‘পথের প্যাঁচাল’-এ রিকশা চালাতে দেখা যাবে ইয়াশকে। তার কাছে এটি ছিল অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। গল্পের ধারণা দিতে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ট্যালেন্টের গল্প। ট্যালেন্ট বিষয়টি কখন, কোথায় ও কীভাবে বেরিয়ে আসবে— কেউ জানে না। গল্পটি তেমনই, যেখানে কেউ ট্যালেন্ট প্রত্যাশা করে না। কিন্তু সেখানেই এটি পাওয়া যায়।’
বহ্নি হাসান বলেন, ’উমা দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন স্বাবলম্বী নারী। তার উল্টো দিকে অনেক মানুষকে দেখা যায়। একপর্যায়ে বায়েজিদ আসে মেয়েটির জীবনে। অন্য সব চরিত্রের সঙ্গে কাঠখড় পোড়ালেও বায়েজিদ এসে উমাকে অন্য এক ভাবনায় ডুবিয়ে রাখে। তাদের মধ্যে একটি মানবিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে এটা ঠিক প্রেম নয়। যদিও কোনো কিছুই তো প্রেমের বাইরে না!’
‘পথের প্যাঁচাল’ নাম শুনলেই মনে আসে প্রয়াত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’র কথা। গল্প বা ভাবনায় দুটির মধ্যে কোনো যোগসাজশ আছে? নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন, ‘শব্দ দুটি শুধু শুনতেই কাছাকাছি। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের গল্প।’
পথের সঙ্গে রূপক অর্থে জীবনের মিল খোঁজার চেষ্টা করেন অনেকে। কারণ জীবন যেমন অনিশ্চিত, তেমনই পথেরও কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে অপ্রত্যাশিত কিছু। জীবনের প্রয়োজন ও আকাঙক্ষা কাকে, কখন, কোথায় ও কীভাবে নিয়ে যায়— কে বলতে পারে! আবার পথেই এমন সব ঘটনা ঘটে, যা জীবন বদলে দিতে পারে। এমনই কিছু ঘটনা গল্প আকারে সাজিয়েছেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। গল্পের নাম ’পথের প্যাঁচাল’।
গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, “জীবন মানেই এক দীর্ঘ পথ। চলার পথে তৈরি হয় অসংখ্য গল্প। ‘পথের প্যাঁচাল’-এ কিছু বিষয় অন্য দৃষ্টিতে দেখানোর চেষ্টা করেছি। এখানে দুটি ভিন্ন শ্রেণির দুজনের কথার মাঝে রয়েছে শ্রেণি আলোচনা ও অনুভূতির বয়ান। অনেকে এটিকে ‘অসম’ কিছু একটা ভাবতে পারেন। তবে আমি বলব, সহজ-সরল সম্পর্ককে মানবিকভাবে দেখার চেষ্টা। সামাজিক ট্যাবুর বাইরে গিয়ে সম্পর্কের এক মানবিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে।”
শিপ্রা দেবনাথের গল্পে ’পথের প্যাঁচাল’-এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। এতে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনির হাসান খান শিমুল, অশোক বেপারী, প্রণব ঘোষ ও সানজিদা ইয়াসমিন স্নিগ্ধা। আলফা-আই এবং চরকির যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে এটি।
স্বল্প ব্যাপ্তির ফ্ল্যাশ ফিকশন মূলত জীবনের কিছু মুহূর্তের নান্দনিক তথা সিনেম্যাটিক বর্ণনা। এর আগে চরকিতে ফ্ল্যাশ ফিকশন হিসেবে মুক্তি পেয়েছে ‘খুব কাছেরই কেউ’, ‘গ্যাঁড়াকল’, ‘অন্ধ বালক’, ‘পারফেক্ট ওয়াইফ’, ‘থার্সডে নাইট’ এবং ‘টিফিন বক্স’।






