সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শ্রীজাত

শ্রীজাত
মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার সাঁতরাগাছি এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন দেশটির জনপ্রিয় কবি ও গীতিকার শ্রীজাত। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে একটি অনুষ্ঠান শেষ করে নিজের গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন শ্রীজাত। সেই সময় সাঁতরাগাছি এলাকায় হঠাৎ এক গাড়ি এসে তাঁর গাড়িতে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের ধাক্কায় শ্রীজাতর গাড়িটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি পেশিতে আঘাত পান। এরপরেই, দুর্ঘটনার রেশ গুরুতর বুঝে, দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার খবর সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের সুর শোনা যায়। রাজনৈতিক মহল থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপ্যাধায় ধর্না মঞ্চ থেকে, শ্রীজাতের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তিনি জানান, এই দুর্ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে, বাড়ি ফিরেই শ্রীজাত নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন সকলকে। এখন কেমন আছেন তিনি? আদৌ কি উদ্বেগের কোনও কারণ আছে? তিনি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে বললেন...
"সকলকে জানাই, এখন সুস্থ আছি, বাড়িতেই আছি। পেশিতে চোট পেয়েছি, চিকিৎসা চলছে। কিছুদিনের বিশ্রামও তারই অন্তর্গত। আমাদের গাড়িটি গুরুতর ভাবে জখম হলেও, আমি বিপন্মুক্ত। গাড়ি চালাচ্ছিলেন যিনি, তিনিও নিরাপদ আছেন। কাল আমার এই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী দূর্বাকে ও আমাকে নানাভাবে যোগাযোগ ক'রে আমার কুশল জানতে চেয়েছেন, আমরা যথাসম্ভব প্রত্যুত্তর করেছি। তবুও হয়তো কারও কারও কাছে ব্যক্তিগত ভাবে পৌঁছনো হয়নি, তাই এই লেখা। আর-কেউ যেন এ-সংবাদে উদ্বিগ্ন না হন, সেও এ-লেখার উদ্দেশ্য। আরেকটি ধোঁয়াশাও সৃষ্টি হয়েছে কোনও ভাবে, কাটানো দরকার। তা হলো এই যে, দূর্বা সেদিন আমার সঙ্গে গাড়িতে ছিল না।"
সঙ্গে তিনি আরও বললেন, "দুটি কথা আলাদা ক'রে বলার। কাছের বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-পরিজনদের শঙ্কা তো স্বাভাবিক ও অনুমেয়। তাঁরা ব্যতিরেকেও এত মানুষ খবর নিয়েছেন এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যে, আমরা দুঃসময়ে অনেকখানি মনোবল পেয়েছি। প্রত্যেককে আমাদের ভালবাসা জানাই। আর, নানান ব্যস্ততার মধ্যেও মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বারেবারে আমার পরিস্থিতির খোঁজ করেছেন, তাঁর এই আন্তরিকতা ভোলবার নয়। তাঁর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।
পরিশেষে বলি, চিকিৎসকের নির্দেশে এখন কয়েকদিন গৃহবন্দি থাকতে হবে। তাই যে-সমস্ত অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিত থাকার কথা ছিল, সেসব আয়োজনে পৌঁছতে আমি নেহাতই অপারগ। উদ্যোক্তাদের কাছে সে-বাবদ আগাম মার্জনা চেয়ে রাখলাম"



