মাজবুরে মজেছেন তরুণরা, শেহেরিয়ার বদলাচ্ছেন পাকিস্তানি গানের চেনা জগত

পাকিস্তানের নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী শেহেরিয়ার রেহান নিজের জাদুকরী সুর দিয়ে বদল করে দিচ্ছেন দেশটির ইন্ডি-পপ গানের চেনা জগৎ। আড়ম্বরের চেয়ে নিরেট আবেগকেই তিনি দিয়েছেন সবথেকে বেশি গুরুত্ব, যা তার গান ‘মাজবুর’ এ স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।
জাঁকজমকপূর্ণ কোনো নাটুকেপনা নয় বরং রেহানের সংগীত বেড়ে ওঠে এক অদ্ভুত শান্ত আর সংযত আবহে। তার গানে ইন্ডি-পপের সাথে রক মিউজিকের সেই সূক্ষ্ম মেলবন্ধন পায় নতুন এক মাত্রা, যেখানে তার নিজের লেখা লিরিক্সগুলো হয়ে ওঠে দারুণ মন ছোঁয়া।
প্রাচ্যের চিরাচরিত সুরের সাথে আধুনিক নির্মাণের এক দারুণ সংমিশ্রণ তিনি ঘটিয়েছেন নিজের প্রতিটি সৃষ্টিতে। তার গানগুলো একদমই কৃত্রিম মনে হয় না বরং সেগুলো আমাদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা বলে খুব সহজভাবে।
‘মাজবুর’ গানটি তার এখন পর্যন্ত সবথেকে আবেগঘন এক কাজ বলে মনে করছেন সংগীত প্রেমীরা। জোহা ওয়াসিমের সাথে গাওয়া এই দ্বৈত গানটি শুনতে লাগে ঠিক যেন দুজন মানুষের মধ্যকার এক গোপন আর নীরব কথোপকথন। গানের প্রতিটি কথায় আকুলতা আর না বলা অনুভূতির সেই টান রয়েছে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
নিজে হাতে লেখা আর সুর করা এই গানটিতে রেহান রেখেছেন এক অসাধারণ কোমলতা। হুট করে বড় কোনো নাটকীয়তার দিকে না গিয়ে গানটি যেন থমকে দাঁড়ায় কিছু না বলা কথা আর দ্বিধার মাঝে। আকুল তৃষ্ণা আর নীরব আত্মসমর্পণের এক অদ্ভুত গল্প তিনি বুনেছেন গানের এই সুন্দর কথায়।
এই ভালোবাসা যেমন অনিবার্য, তেমনি এর মাঝের জটিলতাগুলোও দারুণভাবে ফুটে উঠেছে শিল্পীর কণ্ঠে। অতিরিক্ত মিউজিকের ভিড়ে হারিয়ে না গিয়ে গানটি দেয় শ্রোতাদের এক ধরণের মানসিক শান্তি।
নির্মাণের দিক থেকেও গানটিতে খুব সামান্য আর সহজ সব যন্ত্রানুষঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে। স্বচ্ছ মিক্সিংয়ের কারণে দুই গায়কের কণ্ঠই খুব চমৎকারভাবে ভেসে আসে শ্রোতাদের কানে। বাজারে প্রচলিত অতিরিক্ত সাউন্ডের গানের ভিড়ে এটি নিয়ে এসেছে এক পশলা সতেজ বাতাসের ছোঁয়া।
পাকিস্তানের স্বাধীন সংগীতের এই বড় জোয়ারে রেহানের মতো শিল্পীরা সাফল্যের নতুন এক সংজ্ঞা তৈরি করছেন প্রতিনিয়ত। মূলধারার কোনো বাঁধা ধরা নিয়মে পা না দিয়ে তিনি নিজের কাজে ধরে রেখেছেন এক নিরেট সততা। ‘মাজবুর’ গানটির অভাবনীয় সাফল্যই প্রমাণ করে যে রেহানের এই নীরব ধারাবাহিকতা হতে পারে তার ক্যারিয়ারের সবথেকে বড় হাতিয়ার।



