অবশেষে এসেছিলেন কাছাকাছি, তারপর বহুদূর

‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ করতে গিয়েই পরিচয় হয় দুজনের। এরপর প্রেম ও বিয়ে৷ তাদের ঘরে আছে পুত্র সন্তান সহজ। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল ব্যানার্জী ও তার সহধর্মিণী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার- এই জুটির কথা সকলেই জানেন।
সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়, রাহুল-প্রিয়াঙ্কার প্রেমের গল্প। কিশোরি প্রিয়াঙ্কার প্রেমে পড়েন রাহুল। পর্দায় ভাই-বোন হিসাবে শুরু হয়েছিল তাঁদের গল্প। শুরুতে নাকি রাহুলের নায়িকা হওয়ার অফার বারবার রিজেক্ট করতেন প্রিয়াঙ্কা। ভাগ্য বদলায় রাজ চক্রবর্তীর চিরদিনই তুমি যে আমার-এর হাত ধরে। ২০০৮-এ মুক্তি পায় এই ছবি।
তখনও আঠারোর গণ্ডি পার করেননি প্রিয়াঙ্কা। দু-বছর পর দুম করে রাহুলের সঙ্গে বিয়েটা সেরে নেন অভিনেত্রী। কেরিয়ার জলাঞ্জলি দিয়ে বেছে নেন মাতৃত্ব। ২০১৩ সালে জন্ম নেয় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার পুত্র সহজ।
কিন্তু সন্তানের জন্মের বছর খানেকের মধ্যেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কার মনোমালিন্য বিরাট আকার ধারণ করে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে আলাদা হয় পথ। দীর্ঘদিন সিঙ্গল মাদার হিসাবে একাই সহজকে বড় করেছেন প্রিয়াঙ্কা। আদালতে বিচ্ছেদ মামলাও দায়ের হয় ২০১৮ সালে।
কিন্তু এত সহজে কি ভেঙে ফেলব বললেই ভেঙে ফেলা যায়? বিচ্ছেদ পর্ব চলাকালীন রাহুলের নাম জড়িয়েছে একাধিক সহঅভিনেত্রীর সঙ্গে। টলিউডের এক নামী ফটোগ্রাফারের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার ঘনিষ্ঠতার কথাও কারো অজানা ছিল না। তবে ছেলের জন্য ফের এক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা।
২০২২ সাল থেকে একটু একটু করে ফের কাছাকাছি আসছিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। পূজা, দোল, সব অনুষ্ঠানেই সহজকে মাঝে রেখে একসঙ্গেই উদযাপন করতে দেখা গিয়েছিল রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে। ওই বছর প্রিয়াঙ্কার জন্মদিনেও অভিনেত্রীর সঙ্গে একই রঙের পোশাক পরে দেখা গিয়েছিল রাহুলকে। আবার সহজকে নিয়ে একসঙ্গে দোলও উদযাপন করেছিলেন এই জুটি। দুজনের এক হওয়ার খবরে সিলমোহর দিয়েছিলেন রাহুলই। জানিয়েছিলেন, ডিভোর্স মামলা প্রত্য়াহার করে ছেলে সহজের জন্য একসঙ্গে থাকবার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
স্বামী-স্ত্রী হিসাবে সম্পর্ক ছিল অটুট। পরস্পরের সুদিনে-দুর্দিনে একসঙ্গেই ছিলেন তাঁরা। স্বামীর মৃত্যু সংবাদ যখন কানে এল তখন ছবির লুকসেটে ব্যস্ত ছিলেন। বুঝেই উঠতে পারছিলেন না কী করবেন! ১৩ বছরের ছেলেকে কী করে বলবেন এই কঠিন সত্যিটা?
স্বামীর মৃত্যুর খবর চাউর হতেই এবার সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিলেন অভনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। এই কঠিন সময়ে গণমাধ্যম ও সবার প্রতি ব্যক্তিগত পরিসর চেয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি লিখেছেন, “এটি আমাদের জন্য গভীর শোক ও অসীম কষ্টের সময়। এই কঠিন মুহূর্তে আমরা আন্তরিকভাবে কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর চাই।”
পরিবারের সবাই একসঙ্গে এই শোক সামলানোর চেষ্টা করছেন জানিয়ে তিনি আরো বলছেন, “আমাদের পরিবারে একটি শিশু আছে, একজন মা আছেন—আছে প্রিয়জনেরা। আমরা সবাই মিলে এই অপূরণীয় ক্ষতি সামলানোর চেষ্টা করছি।”
গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা বললেন, “আমাদের বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে বিনীত অনুরোধ— দয়া করে আমাদের এই ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করুন। আমাদের শান্তভাবে শোক পালনের সুযোগ দিন।”

