তারকাদের ভোটযুদ্ধে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বিনোদন অঙ্গনের কয়েকজন তারকার ছবির কোলাজ
ভারতের বিধানসভা নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং রাজনীতি ও বিনোদনের এক অন্যরকম মিশ্রণে পরিণত হয়েছে! পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু, এমনকি আসাম পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে জনপ্রিয় অভিনেতা, সংগীতশিল্পী ও ক্রীড়াবিদরা সরাসরি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিচিত মুখকে প্রার্থী করে ভোটারদের মন জয়ের কৌশল বেছে নিয়েছে। ফলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনে তারকা প্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে এই তারকা প্রার্থীদের উপস্থিতি নির্বাচনী উত্তাপকে বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি— উভয় দলই সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখকে প্রার্থী করেছে। তবে ভোট গণনার প্রাথমিক ফল বলছে, এই তারকাদের সবার ভাগ্য সমানভাবে সুপ্রসন্ন হয়নি। প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। যদিও শেষ ফল নির্ভর করছে পরবর্তী রাউন্ডগুলোর ওপর। উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছিয়ে পড়েছেন বিজেপির সজল ঘোষের কাছে।
একইভাবে ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থী ও নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী পিছিয়ে রয়েছেন বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর তুলনায়, যদিও আগের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পিছিয়ে আছেন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। প্রায় ছয় হাজার ভোটে দমদম কেন্দ্রে পিছিয়ে তিনি। সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সীও ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন লড়াইয়ে। পঞ্চম রাউন্ডের গণনা শেষে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির চেয়ে ৯ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে আছেন এই বিদায়ী বিধায়ক।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে দুই অভিনেত্রীর লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক লাভলি মৈত্রকে পেছনে ফেলেছেন। কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্রে একই চিত্র— তৃণমূলের শ্রেয়া পাণ্ডে পিছিয়ে আছেন বিজেপির তাপস রায়ের কাছে।
তবে সব জায়গার চিত্র একই রকম নয়। নদিয়ার করিমপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী বড় ব্যবধানে এগিয়ে। কয়েক দফা গণনা শেষে প্রায় ১৪-১৮ হাজার ভোট বেশি দেখা যাচ্ছে তার ঘরে।
অন্যদিকে হাওড়ার শিবপুরে বিজেপির অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। শ্যামপুর কেন্দ্রে বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায়ও প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে, যদিও কিছু জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হচ্ছে।
টালিগঞ্জে বিজেপির পাপিয়া অধিকারী তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাসের কাছে পিছিয়ে আছেন। ষষ্ঠ রাউন্ডের শেষে চন্দননগরে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন গুহ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনের থেকে তিনি এগিয়ে ৬ হাজার ১৫৩ ভোটে।
অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে দেখা যাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন চিত্র। দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয় নিজের নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নিয়ে এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখাচ্ছেন। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় তার দল এরই মধ্যে প্রায় ১৩০টির মতো আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই তার এমন পারফরম্যান্স রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দুই বছর আগে দল গঠনের পর থেকেই বিজয়ের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তার জনসভাগুলোয় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটেছে। সেসবের ইতিবাচক প্রভাব এখন ভোটে রূপ নিতে শুরু করেছে। তিনি নিজেও তিরুচিরাপল্লী ইস্ট ও চেন্নাইয়ের পেরাম্বুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং উভয় জায়গাতেই এগিয়ে আছেন বলে প্রাথমিক ফলে ইঙ্গিত মিলছে। তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে এই চিত্র একটি বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
তামিল রাজনীতিতে আরও কিছু তারকার উপস্থিতি লক্ষণীয়। ডিএমকে নেতা ও বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন নিজ কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে এনটিকের প্রধান অভিনেতা ও চিত্রপরিচালক সিমানও নিজ আসন থেকে এগিয়ে রয়েছেন।
আসামেও তারকা প্রার্থীদের উপস্থিতি আলোচনায় রয়েছে। তেজপুর কেন্দ্রে পৃথ্বীরাজ রাভা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছেন।



