বুথফেরত জরিপে থালাপতি বিজয়ের জন্য সুখবরের আভাস

থালাপতি বিজয় (ছবি: ইনস্টাগ্রাম)
ভারতের তামিলনাড়ুতে ভোট মানেই ডিএমকে বনাম এডিএমকে’র লড়াই। জয়ললিতার দল এডিএমকে’র সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েছে বিজেপি। তবে এবার ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে আরেক শক্তি— অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলটির যাত্রা শুরু হয়। তবে তখন লোকসভা নির্বাচনে লড়েনি টিভিকে।
জল্পনা ছিল, আসন্ন বিধানসভা ভোটে ডিএমকে’র সঙ্গে সমঝোতা করতে পারেন থালাপতি বিজয়। কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে একাই লড়ছে তার দল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে এই তারকার। তিরুচিরাপল্লি পূর্ব ও পেরাম্বুর কেন্দ্র থেকে লড়ছেন তিনি। ২৩ এপ্রিল ভারতের তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোট পড়েছে ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।
একাধিক এক্সিট জরিপ বলছে, বহু বছর ধরে দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কড়গম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কড়গম (এআইএডিএমকে)-এর প্রাধান্যে থাকা রাজ্যে এবার তৃতীয় শক্তি হিসেবে জোরালোভাবে উঠে আসছে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)।
অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার এক্সিট জরিপ অনুযায়ী, টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। তাদের আসনসংখ্যা ৯৮ থেকে ১২০-এর মধ্যে থাকতে পারে এবং ভোটের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। এই ফল ডিএমকে জোটের সঙ্গে প্রায় সমানে সমান অবস্থান তৈরি করছে। যদি চূড়ান্ত ফলেও এই পূর্বাভাস প্রতিফলিত হয়, তাহলে এটি হবে বিজয়ের দলের জন্য এক বিস্ময়কর অভিষেক। ভোটের চূড়ান্ত প্রচারণার আগে থালাপতির দলের সম্ভাবনা ২৫ শতাংশ ভোট ও প্রায় ৪৫ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে ধারণা করা হয়েছিল।
জেভিসির এক্সিট জরিপ অনুযায়ী, এনডিএ ২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১৩১ থেকে ১৫০টি আসন পেতে পারে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১১৮-এর অনেক ওপরে। অন্যদিকে, এসপিএ জোট পেতে পারে ৮০ থেকে ১০১টি আসন। আর অন্য দলগুলো পেতে পারে ২ থেকে ৫টি আসন।
টিভিকে’র প্রচারণার মূল বার্তা দুর্নীতির বিরোধিতা, শাসন সংস্কার এবং কল্যাণনির্ভর রাজনীতি। তবে তামিলনাড়ুর নির্বাচনে ঐতিহাসিকভাবে বর্ণ, জোট, জাতিগত সমীকরণ এবং শক্তিশালী বুথ ব্যবস্থাপনা— সবকিছু মিলিয়েই ফল নির্ধারিত হয়।
যদিও সমালোচকেরা বিজয়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, জনপ্রিয়তা দিয়ে শাসন পরিচালনা সম্ভব নয়। তবে বিজয় নিজেকে একটি স্বচ্ছ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছেন এবং সততা ও প্রশাসনিক সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছেন।
নির্বাচনি বিশ্লেষক প্রদীপ গুপ্ত বিজয়ের এই উত্থানকে দুই কিংবদন্তি নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এম জি রামাচন্দ্রন এবং অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন টি রামা রাও সিনেমা থেকে রাজনীতিতে এসে বিপুল সাফল্য পেয়েছিলেন। একইসঙ্গে পর্যবেক্ষকরা বিজয়ের প্রচার কৌশলের সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডির ২০১৯ সালের নির্বাচনি প্রচারণার মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
আবার অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কে পবন কল্যাণের রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গেও তুলনা টানা হচ্ছে। পবন কল্যাণ বহু বছরের প্রচেষ্টার পর জোটের মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছিলেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জগন, পবন কল্যাণ ও বিজয়ের কৌশলে মিল রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
টিভিকে’র এই উত্থান তামিলনাড়ুর প্রচলিত রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এম কে স্টালিনের নেতৃত্বে ডিএমকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রেখেছে। বিভিন্ন জরিপে ডিএমকে’র টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ার সম্ভাবনা (১২০-১৪৫ আসন) দেখানো হয়েছে, তবে এআইএডিএমকে ক্রমে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
পূর্বাভাসগুলো সত্যি হলে বিজয় হয়তো ‘কিং মেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন, অথবা ইতিহাস সৃষ্টি করে এমজিআর, এনটিআর ও জয়ললিতার মতো জননেতাদের কাতারে নিজের অবস্থান গড়ে নিতে পারেন। অথবা পবন কল্যাণের মতো লম্বা সময়ের চেষ্টাও অপেক্ষা করতে পারে।
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনে ভোট হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার জন্য লড়াই করছেন। এআইএডিএমকে’র ইডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী পাঁচ বছর পর আবারও সরকারি বেঞ্চে ফেরার চেষ্টা করছেন।
তামিলনাড়ুতে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৫ কোটির বেশি, যার মধ্যে ২ কোটি ৯৩ লাখ নারী, ২ কোটি ৮৩ লাখ পুরুষ। প্রায় ১৪ লাখ নতুন ভোটারও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তালিকায়। ডিএমকে ১৬৪টি আসনে এবং তাদের সহযোগীরা লড়ছে ৭০টি আসনে। অন্যদিকে এআইএডিএমকে ১৬৯টি এবং তাদের সহযোগীরা ৬৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সবক’টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের ধারণা, তরুণ প্রজন্মের ভোট ঝুঁকতে পারে বিজয়ের দলের দিকেই।
এদিকে অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে থালাপতি বিজয়ের ক্যারিয়ারের শেষ চলচ্চিত্র ‘জন নায়গন’। দীর্ঘদিন সেন্সর জটিলতায় আটকে থাকার পর এর নতুন মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। কেভিএন প্রোডাকশনের ব্যানারে প্রায় ৫০০ কোটি রুপির বিশাল বাজেটে নির্মিত রাজনৈতিক অ্যাকশনধর্মী ছবিটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে আগামী ৮ মে। এটি পরিচালনা করেছেন এইচ বিনোথ। এতে বিজয়কে দেখা যাবে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায়। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে। খলচরিত্রে থাকছেন ববি দেওল।
সূত্র: ডেক্কান ক্রনিকল




