অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাবের হোসেনের বিরুদ্ধে ‘কোনো মামলা হয়নি’— ভাইরাল দাবির সত্যতা কী?

ছবি: আগামীর সময়
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী দেশত্যাগ করেন, আর দেশে থাকা অনেকের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগের খবর সামনে আসে। এমন প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি দাবি—সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নাকি কোনো মামলাই হয়নি।
তবে যাচাইয়ে এ দাবির সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায় না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভ্যুত্থানের পর হওয়া একটি হত্যা মামলায় সাবের হোসেন চৌধুরীকে আসামি করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার পল্টনে বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর গুলশানের বাসা থেকে সাবের হোসেন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলেও অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তিনি ছয়টি মামলায় জামিন লাভ করেন।
শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করে। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর করা এসব মামলায় তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৩৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
সুতরাং সাবের হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি— এমন দাবি ভিত্তিহীন। বরং প্রাপ্ত তথ্য বলছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।






