সত্যিই কি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললেন সাবেক স্পিকার?

ছবি: আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও পুরোনো একটি ভিডিওকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিভ্রান্তি। এবার জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামে ছড়িয়ে পড়েছে একটি বক্তব্যের দাবি-যেখানে বলা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাস্তবতা ভিন্ন।
২১ এপ্রিল ‘ডেমরা থানা আওয়ামী লীগ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয় ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। ভিডিওটিতে ইংরেজিতে কথা বলতে শোনা যায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে । কিন্তু পুরো ভিডিওতে আলোচিত দাবির সঙ্গে পাওয়া যায়নি সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বক্তব্য। এমনকি ভিডিওটির সময়, স্থান বা প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়নি কোনো তথ্য ।
ভিডিওটি যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের সমর্থনমূলক কনটেন্ট প্রচারে সক্রিয়। এতে করে ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত দাবির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন । পাশাপাশি দেশের কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যম বা শিরীন শারমিন চৌধুরীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এমন বক্তব্যের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
‘আগামীর সময়’ বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটির কিছু অংশ নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘Inter-Parliamentary Union’–এর ফেসবুক পেজে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায় এর দৃশ্য।
মূল ভিডিওটি ছিল কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংসদের ভূমিকা নিয়ে দেওয়া একটি আন্তর্জাতিক বক্তব্যের অংশ। এটি ধারণ করা হয়েছিল Fifth World Conference of Speakers of Parliament এবং 13th Summit of Women Speakers of Parliament–এর প্রেক্ষাপটে, যেখানে শিরীন শারমিন চৌধুরী গুরুত্ব তুলে ধরেন বৈশ্বিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ৭ এপ্রিল গ্রেফতার হন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মামলার এজাহার অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালীন সংঘর্ষে হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আসামি করা হয়েছিল তাকে। তবে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখান, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ড. শিরীন শারমিনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার নেই কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ। পরবর্তীতে, গত ১২ এপ্রিল তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।
অর্থাৎ পুরোনো একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ভিডিওকে নতুন দাবিতে উপস্থাপন করা হয়েছে ভিন্নভাবে । ফলে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামে ছড়িয়ে পড়া ‘গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া’ সংক্রান্ত বক্তব্যটি বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন।




