সিলেটে আ.লীগ নেতাকে পুড়িয়ে হত্যার দাবির ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে কী

ছবি: আগামীর সময়
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে— সিলেটে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। ভিডিওটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। যাচাই করে দেখা যায়, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে সিলেটের কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। এমনকি এটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনাও নয়। মূলত, ভিডিওটি গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘Alip Bayragi’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৯ ডিসেম্বর ভিডিওটি প্রথম ছড়ানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে একদল মানুষ। পরে তার মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। ভাইরাল ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে ওই ঘটনার একাধিক ভিডিওর মিল পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ১৯ ডিসেম্বর ‘ময়মনসিংহে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত দীপু চন্দ্র দাস (২৭) একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
একই ঘটনার তথ্য দেশি-বিদেশি একাধিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে এভাবে পুড়িয়ে হত্যার খবর বিশ্বস্ত কোনো সূত্র বা গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং ভালুকায় সংঘটিত গত বছরের একটি ঘটনাকে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে। সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতাকে পুড়িয়ে হত্যার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি তাই সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা।





