১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা, আসলেই কি কোনো ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে?

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসার এক শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে দেখা যায়, অনেক ব্যবহারকারী যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন। কেউ অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, আবার কেউ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দায়ী করছেন।
এরই মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়ায় একটি দাবিকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পেজ থেকে বলা হয়, ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির ‘আপন নানা’ ধর্ষক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। তবে অনুসন্ধানে এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
মদন থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখনো শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি। সন্তান জন্মের পর এ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। ফলে ‘ডিএনএ রিপোর্টে নানা জড়িত’—এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর মা মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, ঘটনার আগেই গত ১৮ এপ্রিল ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত সাগর। পুলিশ জানায়, আসামিকে গ্রেপ্তারে করা হয়েছে।
শিশুটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার। তিনি জানান, শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে ক্লিনিকে এসে পেটে অস্বাভাবিক নড়াচড়ার কথা জানায়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সে প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় কেবল ‘হুজুর’ শব্দটি উল্লেখ করে।
ভুক্তভোগীর মা জানান, মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করার পরই তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয় এবং সেখানেই বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে আইনি পদক্ষেপ নেন।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রায় পাঁচ মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। একই সঙ্গে তিনি প্রকৃত অপরাধীর বিচার দাবি করেন।
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





