জাতীয় নিরাপত্তায় এআই ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের বড় পদক্ষেপ

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি
জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নত মডেলগুলো সরাসরি পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট, গুগল ও এক্সএআই নতুন এক চুক্তির আওতায় তাদের সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যবহার করতে দিতে সম্মত হয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের অধীন সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড ইননোভেশন (সিএআইএসআই) এই চুক্তির ঘোষণা দেয়।
সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি অ্যানথ্রোপিকের নতুন উন্মোচিত ‘মিথোস’ মডেল হ্যাকারদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে- এমন আশঙ্কা বাড়তে থাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার নতুন এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগেই তা মূল্যায়নের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি এসব মডেলের সক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে গবেষণাও চালানো হবে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জুলাই মাসে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন- যেখানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বে এআই মডেলগুলোকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে যাচাই করার কথা বলা হয়েছিল।
টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে এআই সিস্টেম পরীক্ষা করবে- বিশেষ করে এমন আচরণ শনাক্ত করতে, যা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। পাশাপাশি যৌথ ডেটাসেট ও পরীক্ষামূলক কাঠামোও তৈরি করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি এর আগে যুক্তরাজ্যের এআই ইনস্টিটিউটের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করেছে।
বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
শক্তিশালী এআই সিস্টেমের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ওয়াশিংটনে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে। সাইবার আক্রমণ, সামরিক অপব্যবহার থেকে শুরু করে জটিল ডিজিটাল হামলা- সবকিছুতেই এআই নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফলে সরকার এখন ‘ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল’- অর্থাৎ সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির মডেলগুলোতে আগাম প্রবেশাধিকার নিয়ে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করতে চাইছে।
সিএআইএসআই-এর পরিচালক ক্রিস ফাল বলেন, “স্বাধীন ও কঠোর পরিমাপভিত্তিক গবেষণা ছাড়া উন্নত এআই এবং এর জাতীয় নিরাপত্তা প্রভাব বোঝা সম্ভব নয়।”
আর এই সমঝোতা নতুন কিছু নয়।
এই চুক্তি আসলে ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় করা উদ্যোগেরই সম্প্রসারণ। তখন সিএআইএসআই-এর পূর্ব নাম ছিল ইউএস আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স সেফটি ইনস্টিটিউট এবং প্রতিষ্ঠানটি এআই পরীক্ষার মানদণ্ড, সংজ্ঞা ও স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা নীতি তৈরিতে কাজ করছিল।
সে সময় প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রযুক্তি উপদেষ্টা এলিজাবেথ কেলি, যিনি বর্তমানে অ্যানথ্রোপিকে যোগ দিয়েছেন।
সিএআইএসআই জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে ৪০টির বেশি এআই মডেলের মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে- যার মধ্যে এমন মডেলও রয়েছে, যেগুলো এখনো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।
নিরাপত্তা পরীক্ষা কীভাবে হয়
এআই ডেভেলপাররা প্রায়ই তাদের মডেলের ‘সেফটি গার্ডরেল’ বা নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা আংশিকভাবে সরিয়ে পরীক্ষার জন্য জমা দেয়। এতে করে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষকেরা বুঝতে পারেন, বাস্তবে এই মডেলগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই ঘোষণার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) সাতটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেকটি চুক্তি করে। এতে গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, এনভিডিয়া, ওপেনএআই, রিফ্লেকশন ও স্পেসএক্স অংশ নেয়।
এই চুক্তির মাধ্যমে গোপন সামরিক নেটওয়ার্কে এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে, যা ‘জটিল অপারেশনাল পরিবেশে যুদ্ধক্ষেত্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে’ বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা দপ্তর।
তবে এই তালিকায় অ্যানথ্রোপিক নেই। প্রতিষ্ঠানটি এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রয়োগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ ও আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছে।



