শিলাবৃষ্টি হলে কী করবেন, কী করবেন না

সংগৃহীত ছবি
টানা কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর ফাল্গুন শেষে চৈত্রের আগমনীর মধ্যেই বৃষ্টির দেখা পেয়েছেন রাজধানীবাসী। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর ঢাকার আকাশে হঠাৎই জমে কালো মেঘ। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পড়তে থাকে শিলাও। যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, লিংক রোড, গুলশান ও ভাটারা এলাকায় শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে।
হঠাৎ বৃষ্টিতে ব্যস্ত নগরীর ছন্দেও কিছুটা পরিবর্তন আসে। অফিসফেরত মানুষ ছুটে আশ্রয় নেন দোকানপাট ও ছাউনির নিচে। অনেকে আবার মোবাইল ফোনে শিলাবৃষ্টির মুহূর্ত ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
শিলাবৃষ্টি অনেকের কাছে শৈশবের মধুর স্মৃতি। ছোটবেলায় বৃষ্টিতে ভিজে শীলা কুড়ানোর অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। ছাদে, মাঠে কিংবা বাড়ির উঠোনে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ছোটাছুটি করে শীলা কুড়ানো যেন আনন্দেরই অংশ ছিল। তবে প্রকৃতির এই দৃশ্য যতটা সুন্দর, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।
কেন হয় শিলাবৃষ্টি?
বাংলাদেশে সাধারণত চৈত্রের শেষ দিকে এবং বৈশাখের শুরুতে শিলাবৃষ্টির দেখা মেলে। এ সময় দেশে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে। প্রচণ্ড গরমে মাটির কাছের বাতাস হালকা হয়ে দ্রুত ওপরে উঠে যায়। ঊর্ধ্বাকাশের ঠান্ডা পরিবেশে পৌঁছে সেই উষ্ণ বাতাস ঠান্ডা হয়ে বিশাল ঝড়ো মেঘ তৈরি করে। এই মেঘ থেকেই সৃষ্টি হয় কালবৈশাখী ঝড়।
এই ঝড়ের ভেতরেই জলীয় বাষ্প জমে ছোট বরফকণায় পরিণত হয়। ঝড়ের শক্তিশালী বাতাসে সেগুলো বারবার ওপর-নিচে ওঠানামা করে বড় বরফখণ্ডে পরিণত হয়। এক সময় সেগুলো এতটাই ভারী হয়ে যায় যে বাতাস আর ওপরে ধরে রাখতে পারে না। তখনই সেগুলো শিলা হয়ে মাটিতে পড়ে।
শিলার আকার কখনো ছোট মটরদানার মতো হয়, আবার কখনো কাঁচের গুলির মতো বড়ও হতে পারে। তাই এই সময় সতর্ক থাকা জরুরি।
শিলাবৃষ্টি হলে যা করবেন
১. দ্রুত কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
২. ঘরের দরজা ও জানালা বন্ধ রাখুন।
৩. বাইরে থাকলে শক্ত ছাউনি বা ভবনের নিচে আশ্রয় নিন।
৪. গাড়িতে থাকলে রাস্তার পাশে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে রাখুন।
৫. শিশু ও বৃদ্ধদের ঘরের ভেতরে নিরাপদে রাখুন।
৬. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও মোবাইল ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন।
শিলাবৃষ্টি হলে যা করবেন না
১. খোলা মাঠ, ছাদ বা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
২. শিলা কুড়াতে বাইরে দৌড় দেবেন না।
৩. গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না।
৪. মোটরসাইকেল বা সাইকেল নিয়ে খোলা রাস্তায় চলবেন না।
৫. বজ্রপাতের সময় ধাতব বস্তু ব্যবহার বা খোলা জায়গায় অবস্থান করবেন না।
এদিকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে বছরের প্রথম প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’ সক্রিয় হতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে দেশের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাত হতে পারে। শুক্রবার রাত থেকেই সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল দিয়ে বৃষ্টিবলয়টি দেশে প্রবেশ করেছে এবং আগামী ১৮ মার্চের দিকে উপকূলীয় এলাকা দিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই সময়ে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

